Hotel Fire Safety: পরপর অগ্নিকাণ্ডের পর West Bengal-এ Fire Licence যাচাইয়ে বদলের ভাবনা

NEWS INDIA বাংলা
0

পরপর হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ১৮ প্রাণহানি, এবার Fire Safety Certificate দেওয়ার নিয়মেই বড় বদলের ভাবনা

তারাপীঠ থেকে কলকাতা, পরপর আগুনে উঠল প্রশ্ন: হোটেলের Fire Safety Certificate কতটা নিরাপদ? 

তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর West Bengal-এ Fire Safety ব্যবস্থা পর্যালোচনা


স্বাধীনতা দিবসের আগে নয়, তার ঠিক পরেই পরপর দুই ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। বীরভূমের তারাপীঠে Hotel Bideshini-তে আগুনে ৯ জনের মৃত্যু এবং তার দু’দিন পর কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের Hotel Shikha Inn-এ আরও ৯ জনের মৃত্যুর পর এবার হোটেল, গেস্ট হাউস-সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে Fire Safety Certificate ও Fire Licence দেওয়ার প্রক্রিয়াই নতুন করে পর্যালোচনার পথে।

প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে যে ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট Fire Station Officer-এর পরিদর্শনের ভিত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এগোয়, সেখানে অতিরিক্ত যাচাইয়ের স্তর যোগ করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরিদর্শনের পর আরও এক বা দুই স্তরে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের মাধ্যমে রিপোর্ট যাচাই করা হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে তা ঘোষণা হয়নি।

তারাপীঠের দুর্ঘটনা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ১৭ আগস্ট Hotel Bideshini-তে ভোররাতে আগুন লাগে। সরকারি সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৯ জনের মৃত্যুর কথা উঠে এসেছে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, জরুরি বহির্গমন (Emergency Exit) নিয়ে সমস্যা ছিল এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বন্ধ Emergency Exit এবং কাজ না করা Fire Alarm-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পরই তারাপীঠে প্রশাসনিক অভিযান শুরু হয়। ১৫টি হোটেল ও লজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে Fire Safety Certificate, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতির অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি একাধিক যৌথ পরিদর্শন দলের মাধ্যমে হোটেলগুলিতে Fire Fighting Equipment, Smoke Alarm, Emergency Exit, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং Evacuation ব্যবস্থা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরপর ১৯ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে Hotel Shikha Inn-সহ হোটেল-অধ্যুষিত একটি পুরনো ভবনে ভয়াবহ আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়। অন্তত পাঁচজন মৃত বাংলাদেশি নাগরিক বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় ঘুমের মধ্যে আটকে পড়ে বহু মানুষ প্রাণ হারান বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এই ঘটনার পর কলকাতাতেও Fire Safety নিয়ে অভিযান শুরু হয়। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি Guest House এবং ৪টি Restaurant-cum-Bar-কে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘাটতি সংশোধনের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে Fire Safety Certificate থাকলেই কি সেটি বাস্তবে নিরাপদ? কারণ সার্টিফিকেট থাকা আর Emergency Exit খোলা থাকা, Fire Alarm কার্যকর থাকা কিংবা কর্মীরা জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হওয়া এক বিষয় নয়।

ফলে শুধু লাইসেন্স দেওয়ার সময় পরিদর্শন নয়, নিয়মিত Surprise Inspection, Fire Drill এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। পরপর দুই অগ্নিকাণ্ডে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু এই প্রশ্নকে আরও গুরুতর করেছে।

এখন দেখার বিষয়, প্রস্তাবিত বহুস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্তে পরিণত হয় কি না এবং তা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়। কারণ শুধু দুর্ঘটনার পর হোটেল বন্ধ করে দেওয়া নয়, দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!