আজ যুবভারতীতে মহারণ! ডুরান্ড ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, বদলার লড়াইও
একই শহর, একই ট্রফি, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আজ ডুরান্ড ফাইনালে ফের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান
কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার ২৩ আগস্ট, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Vivekananda Yuba Bharati Krirangan) ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant)। ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৫টায়। ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং কলকাতা ডার্বির আবেগ, ইতিহাস ও মর্যাদারও পরীক্ষা।
ডুরান্ড ফাইনালের ইতিহাসেও দুই দলের দ্বৈরথের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। রবিবারের ম্যাচটি এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে দুই দলের ১৩তম সাক্ষাৎ। আগের ১২টি ফাইনালে দুই দলই পাঁচবার করে জয় পেয়েছে বলে ফাইনাল-পূর্ব পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আজকের ম্যাচে যে দল জিতবে, তারা শুধু ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের ট্রফিই ঘরে তুলবে না, ফাইনাল-দ্বৈরথের হিসাবেও এগিয়ে যাবে।
ফাইনালে ওঠার পথ অবশ্য কোনও দলের জন্যই সহজ ছিল না। ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে SC Delhi-র বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেনি। ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ইস্টবেঙ্গল ৫-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে পৌঁছয়। গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের গুরুত্বপূর্ণ সেভ দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেয়। সরকারি ডুরান্ড কাপের রিপোর্ট অনুযায়ী, গিল নিয়মিত সময়ে একটি পেনাল্টি এবং শুটআউটেও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।
অন্যদিকে মোহনবাগানও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। শিলংয়ে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়। সেখানে মোহনবাগান ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায়। গোলরক্ষক বিশাল কাইথ দুটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলের ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
তবে আজকের ফাইনালের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাসের কারণ রয়েছে মোহনবাগানের। চলতি ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। ২৫ জুলাই সেই ম্যাচে সাহাল আবদুল সামাদের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল মোহনবাগান। ফলে ফাইনালে সেই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য থাকবে সবুজ-মেরুন শিবিরের।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের কাছে আজকের ম্যাচটি সেই হারের জবাব দেওয়ার বড় সুযোগ। ফাইনালের আগে তাদের অন্যতম সমস্যা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। অন্যদিকে মোহনবাগানের আক্রমণভাগে সাহাল আবদুল সামাদ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন এবং টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করে দলের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন।
মোহনবাগানের লক্ষ্য ডুরান্ড কাপের ১৮তম শিরোপা জয়। ইস্টবেঙ্গলের সামনে রয়েছে ১৭তম ট্রফি জিতে ঐতিহাসিক ব্যবধান কমানোর সুযোগ। অর্থাৎ ট্রফির পাশাপাশি আজকের লড়াইয়ে রয়েছে পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ডার্বির ফল এবং সমর্থকদের আবেগ।
সব মিলিয়ে যুবভারতীতে আজকের সন্ধ্যা যে কলকাতা ফুটবলের অন্যতম বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। দুই দলই সেমিফাইনালে টাইব্রেকারের চাপ সামলে এসেছে। তাই ৯০ মিনিটের খেলায় কে স্নায়ুর চাপ সামলে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের বড় পার্থক্য। মোহনবাগান কি আগের জয়ের পুনরাবৃত্তি করে ১৮তম ডুরান্ড জিতবে, নাকি ইস্টবেঙ্গল বদলা নিয়ে ১৭তম শিরোপা ঘরে তুলবে—উত্তর মিলবে আজ যুবভারতীতেই।

