আজ যুবভারতীতে মহাডার্বি! ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, নিরাপত্তায় কড়া নজর
তিন বছর পর ডুরান্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি, যুবভারতী ঘিরে সকাল থেকেই ফুটবল উত্তেজনা
কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে বিশেষ। রবিবার, ২৩ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ১৩৫তম IndianOil Durand Cup-এর ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তিন বছর পর ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ফের কলকাতা ডার্বি হওয়ায় সকাল থেকেই শহরজুড়ে উত্তেজনার আবহ। ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৫টায়।
ফাইনাল ঘিরে শুধু মাঠের লড়াই নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৯টার আগেই যুবভারতীর বাইরে পুলিশি প্রহরা এবং RAF-এর উপস্থিতি দেখা যায়। দুপুরের পর দুই দলের সমর্থকেরা স্টেডিয়ামমুখী হলে ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি স্টেডিয়াম সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ চলতি ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। ২৫ জুলাইয়ের সেই ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল। কিন্তু ফাইনাল পর্যন্ত এসে পরিস্থিতি বদলেছে। ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে Sporting Club Delhi-কে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য রাখার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল সেই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
অন্যদিকে, মোহনবাগানও কঠিন সেমিফাইনাল পেরিয়ে এসেছে। শিলংয়ে NorthEast United-এর বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় সবুজ-মেরুন। গোলরক্ষক বিশাল কাইথ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলের ফাইনালে ওঠার পথ তৈরি করেন।
ফাইনালের লড়াইয়ে তাই শুধু বর্তমান ফর্ম নয়, ইতিহাসও বড় ভূমিকা রাখবে। মোহনবাগানের ঝুলিতে রয়েছে ১৭টি ডুরান্ড কাপ, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ১৬ বার। অর্থাৎ আজকের ম্যাচে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি সর্বাধিক ডুরান্ড শিরোপার দৌড়েও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইস্টবেঙ্গলের সামনে আরও একটি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ—শেষবার তারা ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ২০০০ সালে।
দুই শিবিরের প্রস্তুতিতেও রয়েছে ভিন্ন ছবি। ইস্টবেঙ্গল কলকাতাতেই সেমিফাইনাল খেলেছে, ফলে ফাইনালের আগে তুলনামূলক বেশি সময় পেয়েছে। বিপরীতে শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলা মোহনবাগানকে ভ্রমণ ও কম বিশ্রামের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। বিমান বিভ্রাটের কারণে তাদের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ফাইনাল ঘিরে ভিআইপি উপস্থিতিও আলোচনায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ম্যাচের আগে সমাপ্তি অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা বিকেল ৪টায়।
সব মিলিয়ে আজ যুবভারতী শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের সাক্ষী হবে না, সাক্ষী হবে কলকাতার দীর্ঘদিনের ফুটবল-আবেগের আরেকটি অধ্যায়ের। মাঠে ট্রফির লড়াই, গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের আবেগ এবং বাইরে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি কলকাতার ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে বিশেষ হয়ে উঠতে চলেছে।

