চীন-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে ৩০ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট, বন্ধ হতে পারে Federal Funding!
৩১ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ, গবেষণা ও প্রযুক্তি নিরাপত্তায় বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে কড়া নজর ওয়াশিংটনের
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) এবং গবেষণা সুরক্ষা (Research Security) নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আমেরিকার ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি গবেষণা ও শিক্ষাগত সম্পর্ক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (Department of War)। নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট বিদেশি সংস্থার সঙ্গে তাদের গবেষণা, আর্থিক লেনদেন এবং শিক্ষাগত সহযোগিতা পর্যালোচনা করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সমস্যাজনক সহযোগিতা চিহ্নিত হলে তা বন্ধ বা সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের মূল উদ্বেগ, সরকারি অর্থে পরিচালিত গবেষণা বা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রযুক্তি, তথ্য ও মেধাস্বত্ব (Intellectual Property) যেন বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে না পৌঁছয়। বিশেষ করে চিনের সঙ্গে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষণা সহযোগিতা এই নজরদারির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানের কয়েকটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিরক্ষা দফতরের আপডেটেড তালিকায় মোট ১৩০টি বিদেশি academic ও research institution-এর নাম রয়েছে, যার অধিকাংশই চিনের, পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
প্রতিরক্ষা দফতরের প্রকাশ্য নির্দেশে ৩০টি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জানানো হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে Harvard University, Massachusetts Institute of Technology (MIT) এবং Johns Hopkins University-সহ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গবেষণার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সংবেদনশীল তথ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দফতরের গবেষণা ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক Emil Michael জানিয়েছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত গবেষণা ব্যবস্থাকে বিদেশি অপব্যবহার থেকে রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে পারে এমন academic partnership-এর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সহযোগিতা ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে, না হলে ভবিষ্যৎ federal research funding হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন উচ্চশিক্ষা মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। American Council on Education-এর পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, প্রমাণিত অনিয়মের বদলে কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদেশি সহযোগিতার কারণে আগেভাগেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে কি না। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি legitimate academic exchange বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
চিনের পক্ষ থেকেও এই ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। বেজিংয়ের বক্তব্য, স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষাগত আদানপ্রদানকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজনৈতিকভাবে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের যুক্তি, গবেষণা নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রুখতে আগাম সতর্কতা প্রয়োজন।
ফলে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অডিট শুধু উচ্চশিক্ষা নীতির বিষয় নয়, বরং মার্কিন-চিন সম্পর্কের বৃহত্তর টানাপোড়েনেরও প্রতিফলন। ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলির রিপোর্ট এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

