লালকেল্লায় প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম’, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তৈরি হল ঐতিহাসিক মুহূর্ত
৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় নতুন ইতিহাস, জাতীয় সঙ্গীতের আগে পরিবেশিত ‘বন্দে মাতরম’
নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট: দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের সকালে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় তৈরি হল এক বিশেষ মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে এই প্রথম লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের মূল আয়োজনে পরিবেশিত হল জাতীয় গান (National Song) ‘বন্দে মাতরম’। এর পরেই প্রচলিত নিয়মে পরিবেশিত হয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) ‘জন গণ মন’। ফলে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যুক্ত হল এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় পৌঁছনোর পর ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে এবারের অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ঘোষণাতেও বিষয়টিকে স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় গান পরিবেশনের সময় উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের দাঁড়িয়ে থাকার কথাও জানানো হয়েছিল। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
২০২৬ সাল ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক পথচলার সঙ্গেও যুক্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যপত্র ‘বঙ্গদর্শন’-এ। পরে এটি তাঁর উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এর সঙ্গে আরও ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়।
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরম’-এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে গানটি ছিল দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা। ১৯৫০ সালে গণপরিষদের চূড়ান্ত অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদা পায়। তাই দুই গানই দেশের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাঁদের সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক পরিচয় আলাদা।
এবারের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের পর ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হওয়ায় স্বাধীনতা দিবসের মূল সরকারি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতার একটি নতুন বিন্যাস দেখা গেল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এই প্রথম ‘বন্দে মাতরম’কে এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হল।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। দেশের উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য, আত্মনির্ভরতা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্য নিয়েও বক্তব্য রাখেন। এবারের অনুষ্ঠানে যুবশক্তি (Yuva Shakti)-র উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবস একদিকে যেমন দেশের স্বাধীনতার ৮০তম উদযাপনের সাক্ষী, অন্যদিকে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক যাত্রাকেও সামনে নিয়ে এল। লালকেল্লার প্রাঙ্গণে জাতীয় গানটির প্রথমবারের এই আনুষ্ঠানিক পরিবেশন তাই এবারের স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল।

