ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ, তেহরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য-লেনদেন বন্ধ UAE-র
Sub Headline
UAE-র অভিযোগ অস্বীকার ইরানের, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে ফের বাড়ল উত্তেজনা। ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) ছোড়ার অভিযোগ তুলে তেহরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)। বুধবার, ১৯ আগস্ট, আবুধাবির এই ঘোষণাকে ইরান-UAE সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান।
UAE-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। পরবর্তী মূল্যায়নে আবুধাবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নৌচলাচল (Maritime Navigation)। একটি ক্ষেপণাস্ত্র UAE-র জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে এবং অন্যটি দেশের জলসীমার মধ্যে সাগরে পতিত হয় বলে দাবি করেছে UAE।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়। UAE-র বাসিন্দাদের মোবাইলে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এর পরেই তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা করে আবুধাবি। UAE জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদানপ্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত থাকবে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে, এই কারণ দেখিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে UAE সরকার।
তবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ মানতে নারাজ ইরান। তেহরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই UAE-র অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আঞ্চলিক দেশগুলিকে যাচাই না-করা বা ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে ইরান।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথ ঘিরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, UAE-র বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিবেশেও চাপ তৈরি করতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হলে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম, জাহাজ চলাচলের খরচ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায়।
তবে এখনই এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। একদিকে UAE নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথে গিয়েছে, অন্যদিকে ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিয়েছে।
ফলে আগামী দিনে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপ এবং উপসাগরীয় দেশগুলির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের সত্যতা এবং তার পরবর্তী কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াই এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

