অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা: ১৭ আগস্ট থেকে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ₹৩,০০০
নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর টাকা দেওয়া হবে। আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের অসঙ্গতি, DBT সক্রিয় না থাকা বা যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হলে অর্থপ্রদান আটকে যেতে পারে।
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যাচাই-পর্বে যোগ্য বলে বিবেচিত প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে মাসে ₹৩,০০০ করে আর্থিক সহায়তা পাঠানো শুরু হবে। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর টাকা দেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য, প্রকৃত যোগ্য প্রাপকদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভুয়ো বা অযোগ্য আবেদন বাদ দিতেই এই যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণার ফলে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। এর আগে একাধিক আবেদনকারী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে, এমন অভিযোগও উঠেছিল যে কিছু অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সেই কারণেই সরকার আবেদনপত্র ও প্রাপকদের তথ্য পুনরায় যাচাই করছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এই যাচাই প্রক্রিয়া চলার কথা। যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর যাঁদের আবেদন বৈধ বলে বিবেচিত হবে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে ১৭ আগস্ট থেকে টাকা পাঠানো হবে।
প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের মাসে ₹৩,০০০ অর্থাৎ বছরে ₹৩৬,০০০ দেওয়ার কথা। টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ধরনের DBT বা Direct Benefit Transfer ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমিয়ে সরাসরি প্রাপকের কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্যতা নিয়েও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূল প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরি, নির্দিষ্ট ধরনের পেনশন বা আয়কর সংক্রান্ত অবস্থার মতো বিষয় যোগ্যতা নির্ধারণে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবেদনপত্রে আধার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য নথির তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলেও সমস্যা হতে পারে।
এদিকে, প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও সামনে এসেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষক বা Kisan এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো অতিরিক্ত শ্রেণিকেও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনার জন্য যোগ্যতার কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই যাচাই প্রক্রিয়া কঠোরভাবে চালানোর কথা জানানো হয়েছে।
প্রথমদিকে অন্নপূর্ণা যোজনায় বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। পরবর্তী যাচাইয়ে বহু আবেদন বাতিল হওয়ায় প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগীর সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। Times of India-র পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রায় ১.৩ কোটি মহিলা যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন এবং এক কোটিরও বেশি প্রাপকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। একইসঙ্গে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল হওয়ার কথাও উঠে এসেছিল।
যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে বা যাঁদের টাকা এখনও আসেনি, তাঁদের ক্ষেত্রে কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে DBT সক্রিয় না থাকা, আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের অসঙ্গতি, ভুল নথি, যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা কিংবা আবেদন যাচাই অসম্পূর্ণ থাকার কারণে অর্থপ্রদান আটকে যেতে পারে। আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরে যোগাযোগ করে আবেদনের অবস্থা জানতে এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানাতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ১৭ আগস্ট অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী অর্থপ্রদান শুরু হওয়া রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। তবে শুধু ঘোষণা নয়, নির্ধারিত সময়ে প্রকৃত যোগ্য প্রাপকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয় কি না, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। একইসঙ্গে বাতিল হওয়া আবেদনকারীদের জন্য দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

