ইরান-আমেরিকা সংঘাত থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, উদ্বেগে জ্বালানি বাজার
হরমুজে অচলাবস্থা, গাজায় অনিশ্চিত শান্তি উদ্যোগ এবং রাশিয়ার উপর নতুন চাপ, সংঘাতের প্রভাব ছড়াচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনকে ঘিরে একের পর এক সংঘাতের অভিঘাত এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরান-আমেরিকা সংঘাত, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা, গাজায় শান্তি প্রচেষ্টার অনিশ্চয়তা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মার্কিন বাণিজ্য ও শুল্কনীতি (Tariff Policy) বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত। ১৮ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনও আলোচনা নির্ধারিত নেই। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতের পর জুনে তৈরি হওয়া একটি সমঝোতার কাঠামোও কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অচলাবস্থার প্রভাব সবচেয়ে দ্রুত দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় ১৮ আগস্ট Brent crude-এর দাম ৯১ ডলারের উপরে উঠে যায়। ১৯ আগস্টও তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বাড়ে। হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে গাজার সংকট। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা থাকলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। সম্প্রতি গাজা নিয়ে মার্কিন উদ্যোগকে ঘিরে ইজরায়েল ও ওয়াশিংটনের মধ্যেও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে গাজার পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইউরোপের চাপ অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেনেট ৮৬-১১ ভোটে এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যাতে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতার প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি এখনও আইন হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভারত ও চিনের মতো বড় ক্রেতারাও এর আওতায় পড়তে পারে।
ফলে মার্কিন Tariff Policy এখন শুধু বাণিজ্যিক নীতি নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে জ্বালানি বাণিজ্যকে লক্ষ্য করা হলে তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী Supply Chain, পণ্যের দাম ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাত, গাজার অনিশ্চয়তা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ একই সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক শুল্ক ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। আগামী দিনে হরমুজের পরিস্থিতি, ইরান-মার্কিন কূটনীতি, গাজা শান্তি উদ্যোগ এবং রাশিয়া নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলির নীতি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

