কৃষকদের জন্য বড় সুখবর! ₹৭৫ হাজার পর্যন্ত ফসলি ঋণ মকুব, ১৩.৩৪ লক্ষ কৃষক পাবেন সুবিধা
ফসলি ঋণে বড় স্বস্তি তামিলনাড়ুর কৃষকদের, বাড়ল ঋণ মকুবের সীমা
তামিলনাড়ুর কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। সমবায় প্রতিষ্ঠান (Co-operative Institutions) থেকে নেওয়া ফসলি ঋণ (Crop Loan) মকুবের সীমা বাড়িয়ে ₹৭৫,০০০ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও কৃষকের সমবায় ফসলি ঋণের পরিমাণ ₹৭৫,০০০ বা তার কম হলে সেই ঋণের পুরোটা মকুবের আওতায় আসবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে সমস্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মকুব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা সীমা নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার।
সোমবার, ১৭ আগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় Rule 110-এর অধীনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তাঁর সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে কৃষকদের জন্য এই সম্প্রসারিত ঋণ মকুব প্রকল্পের কথা সামনে আনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষক সংগঠনগুলির দাবি এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর আগের ঋণ মকুবের সীমা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সরকার সমবায় ফসলি ঋণের ক্ষেত্রে ₹৫০,০০০ পর্যন্ত মকুবের ব্যবস্থা করেছিল। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ₹৭৫,০০০ করা হল। নতুন কাঠামোয় ₹৭৫,০০০ থেকে ₹১ লক্ষ পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ₹৭৫,০০০ পর্যন্ত মকুব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, ₹১ লক্ষের বেশি সমবায় ফসলি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ₹৩৫,০০০ পর্যন্ত মকুবের সুবিধা থাকবে। ফলে ঋণের পরিমাণ বেশি হলেই পুরো ঋণ মকুব হবে না, বরং নির্ধারিত slab অনুযায়ী কৃষকরা সুবিধা পাবেন।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই সম্প্রসারিত সুবিধার ফলে অতিরিক্ত ২,৩৮,২৬৪ জন কৃষক উপকৃত হবেন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রাজ্যের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ₹৯৫৩.০৬ কোটি বরাদ্দ করা হবে। সব মিলিয়ে সংশোধিত ফসলি ঋণ মকুব কর্মসূচির আওতায় প্রায় ₹৬,২২০ কোটি মূল্যের ঋণ মকুব করা হবে এবং প্রায় ১৩.৩৪ লক্ষ কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন সেই কৃষকরা, যাঁদের সমবায় ফসলি ঋণের পরিমাণ ₹৫০,০০০-এর বেশি কিন্তু ₹১ লক্ষের মধ্যে। আগের সীমার তুলনায় তাঁদের জন্য ঋণ মকুবের সুযোগ বেড়েছে। কৃষি উৎপাদনের খরচ, সার-বীজ ও অন্যান্য উপকরণের দাম এবং কৃষি আয়ের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঋণের চাপ কমলে অনেক পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিতে স্বস্তি আসতে পারে।
তবে এই ঘোষণার পরও কৃষকদের একটি বড় অংশের দাবি পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। কারণ ₹১ লক্ষের বেশি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মকুব ₹৩৫,০০০-তেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে বড় অঙ্কের সমবায় কৃষিঋণ নেওয়া কৃষকদের ক্ষেত্রে বাকি অর্থ পরিশোধের দায় থেকেই যাচ্ছে। তাই ঘোষণাটি বড় আর্থিক সহায়তা হলেও এটিকে সমস্ত কৃষকের সমস্ত ঋণ মকুব হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
তামিলনাড়ু সরকারের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন কৃষকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমানোর চেষ্টা স্পষ্ট, তেমনই রাজনৈতিকভাবেও কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে নতুন নিয়ম কীভাবে কার্যকর হয় এবং যোগ্য কৃষকদের কাছে মকুবের সুবিধা কত দ্রুত পৌঁছয়, তার দিকে।

