মার্কিন-ইরান শান্তির আশা ধাক্কায়, ৯১ ডলার পার Brent! হরমুজ ঘিরে বাড়ছে তেলের বাজারের উদ্বেগ
মার্কিন-ইরান সমঝোতার পথ ফের অনিশ্চিত, হরমুজের উত্তেজনায় ৯১ ডলারের ঘরে Brent crude
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা ফের অনিশ্চয়তার মুখে। জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও স্থায়ী শান্তিচুক্তির কোনও স্পষ্ট পথ তৈরি হয়নি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, টানা তৃতীয় সেশনে বেড়েছে তেলের দাম।
Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে Brent crude futures একপর্যায়ে ব্যারেলপিছু ৯১.২২ ডলারে পৌঁছয়। একই সময়ে মার্কিন West Texas Intermediate বা WTI-এর দাম ওঠে প্রায় ৮৫.৩১ ডলারে। Brent-এর এই স্তর ৩০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ এবং WTI ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে মূল উদ্বেগ, মার্কিন-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।
জুনের ১৭ তারিখে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি Memorandum of Understanding (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাত বন্ধ করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বৃহত্তর চুক্তির দিকে এগোনো। চুক্তিতে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আলোচনা চালানোর কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তবে চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ জুলাই সেটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন এবং পরে ইরানও সমঝোতা স্থগিত করার কথা জানায়।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে ওই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমেছে। মঙ্গলবার হরমুজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনাও ঘটেছে বলে Reuters জানিয়েছে।
ইরানের অবস্থানও বাজারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দেশটির এক শীর্ষ আলোচক জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলির ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা। একই সময়ে একজন ইরানি কর্মকর্তা Reuters-কে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তেহরান আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থান নিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকির মূল্য ইতিমধ্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে। International Energy Agency বা IEA-ও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজে বিঘ্নের কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কমার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের জন্যও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে দেশের আমদানি ব্যয়, পরিবহণ খরচ এবং মূল্যস্ফীতির উপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে আগামী দিনে মার্কিন-ইরান সম্পর্ক, হরমুজে জাহাজ চলাচল এবং নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয় কি না, তার উপরই নজর থাকবে বিশ্ববাজারের। আপাতত স্থায়ী শান্তির পথ স্পষ্ট না হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই জোরালো।

