৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে মোদির বার্তা, ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার ডাক
স্বাধীনতার ৮০ বছরে নতুন ভারতের সংকল্প, আত্মনির্ভরতা ও যুবশক্তিকে সামনে রেখে মোদির বড় বার্তা
নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট: দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভবিষ্যতের ভারতের বড় রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আত্মনির্ভরতা (Self-Reliance), যুবশক্তি, শক্তি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির বছর হওয়ায়। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বছরব্যাপী এই জাতীয় গানের ১৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন চলছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর বিশেষ উপস্থিতিও জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যকে নতুন করে সামনে এনেছে।
লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের স্বপ্ন এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে বড় লক্ষ্য স্থির করার আহ্বান জানান তিনি। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংকল্পকে আরও জোরালো করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজই আগামী দিনের পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। এবারের স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ভাবনাতেও ‘Yuva Shakti for Viksit Bharat@2047’ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গেও এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন মোদি। সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), শক্তি এবং প্রযুক্তির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। আগামী দিনে আরও ৫ থেকে ৮টি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট তৈরির পরিকল্পনার কথাও তাঁর ভাষণে উঠে আসে। এর লক্ষ্য প্রযুক্তি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী করা।
শক্তি নিরাপত্তা ছিল ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতাকে ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচটি নতুন পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানি কমিয়ে দেশের নিজস্ব শক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনীতির প্রসঙ্গে ভারতের দ্রুত বৃদ্ধির ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন মোদি। উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং শক্তির মতো ক্ষেত্রকে ভবিষ্যৎ ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিনের ভাষণে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনে সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে নরেন্দ্র মোদির বার্তায় অতীতের আত্মত্যাগের স্মরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের ভারতের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সামনে এসেছে। আত্মনির্ভরতা থেকে শক্তি নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর থেকে যুবশক্তি, আর ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ থেকে দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে একই বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করার বার্তাই উঠে এসেছে।

