কলকাতায় রাজনাথ সিংহ, GRSE-তে বিশেষ কর্মসূচি ঘিরে তৎপরতা! নজরে প্রতিরক্ষা শিল্প ও রাজনীতি
২৩ অগস্ট কলকাতায় রাজনাথ সিংহ, GRSE-র কর্মসূচিতে কী বার্তা দিতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী?
কলকাতায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ছে। আগামী ২৩ অগস্ট, রবিবার কলকাতার Garden Reach Shipbuilders & Engineers (GRSE)-এ একটি বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। GRSE-র সঙ্গে রাজনাথ সিংহের আগের কর্মসূচিরও যোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৬ মার্চ কলকাতায় GRSE-র সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ‘Sagar Sankalp’ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং দেশীয় জাহাজ নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এবারের সফরকে ঘিরে তাই প্রতিরক্ষা উৎপাদন (Defence Production), যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। কলকাতার GRSE প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ সংস্থা। সংস্থাটির সদর দফতর Garden Reach Road-এ এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য বিভিন্ন ধরনের জাহাজ ও প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে GRSE-কে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। ‘Make in India’ এবং ‘Atmanirbhar Bharat’-এর লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্ল্যাটফর্মের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জোর দিচ্ছে। GRSE-ও তাদের কাজের ক্ষেত্রে দেশীয়করণ (Indigenisation) বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
ফলে ২৩ অগস্টের কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন কোনও বার্তা দেওয়া হবে—সেদিকেও নজর থাকবে। বিশেষ করে কলকাতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বন্দরনগরীতে প্রতিরক্ষা জাহাজ নির্মাণের পরিকাঠামোকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
এই সফরের রাজনৈতিক দিকটিও নজর কাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিতেও তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একই কর্মসূচিতে উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।
তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগাম কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা, সিদ্ধান্ত বা বড় ঘোষণা হতে চলেছে—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও নেই। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, মূল কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু GRSE এবং প্রতিরক্ষা ও জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ই।
অন্যদিকে, ভিভিআইপি সফরকে কেন্দ্র করে কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ড্রোন ও অনুরূপ উড়ন্ত যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার লক্ষ্য থাকবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আকাশপথে নজরদারির ঝুঁকি কমানো।
GRSE-র ক্ষেত্রে রাজনাথ সিংহের সফরের গুরুত্ব আরও একটি কারণে বাড়ছে। মার্চের ‘Sagar Sankalp’ কর্মসূচিতেই তিনি ভারতের সামুদ্রিক শক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এবারও যদি একই ধারায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও shipbuilding capacity বাড়ানোর বার্তা আসে, তা হলে কলকাতার প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২৩ অগস্টের সফরে একদিকে যেমন রাজনাথ সিংহের GRSE কর্মসূচি ঘিরে প্রতিরক্ষা শিল্পের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির কারণে রাজনৈতিক মহলের নজরও থাকবে। তবে সফর শেষে সরকারি ঘোষণা এবং বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হবে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন কোনও নীতি, প্রকল্প বা প্রতিরক্ষা-শিল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসে কি না।

