কালীঘাটে একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু! স্ত্রীকে কাটারি দিয়ে আঘাত, তারপর আত্মঘাতী স্বামী
কালীঘাটের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর জোড়া মৃত্যু, উদ্ধার সুইসাইড নোট—তদন্তে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন
কালীঘাটে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত। কুণ্ডু রোডের একটি বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডলি দে (৫৬) এবং তাঁর স্বামী বরুণকুমার দে (৬৪)-র দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর স্বামী নিজের জীবন শেষ করেন। দু’জনকেই দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীঘাট থানার অন্তর্গত ৪বি কুণ্ডু রোডের বাড়িতে ওই দম্পতি থাকতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির ভিতরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছয়। ততক্ষণে বাড়ির বাইরে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। ঘরে ঢুকে পুলিশ ডলি দে-কে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, বরুণকুমার দে-কে ঘরের ভিতর অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর হাতেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, বরুণকুমার একটি কাটারি দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে আঘাত করেছিলেন। এরপর নিজের দুই হাতের শিরা কাটেন বলে তদন্তকারীদের অনুমান। একইসঙ্গে ঘুমের ওষুধ এবং অ্যালকোহল সেবনের কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনাটির পূর্ণ ক্রম নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত আরও জটিল হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নোটটি ‘suicide pact’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে হলেও, স্ত্রী এই পরিকল্পনায় স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। নোটে পরিবারের সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে নোটটি কে লিখেছিলেন এবং সেটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা দম্পতির পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক বিষয় এবং সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরুণকুমার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর মানসিক অবস্থার সঙ্গে ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনও তদন্তাধীন।
দম্পতির পরিবারে তাঁদের ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতি রয়েছেন। আচমকা এই ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অন্যদিকে, ঘটনাস্থল ঘিরে পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র, নোট এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। স্ত্রীকে আঘাত করার পর স্বামী কেন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন? তাঁদের মধ্যে কোনও সাম্প্রতিক বিরোধ ছিল কি না? ‘Suicide pact’-এর কথা উঠে এলেও স্ত্রী আদৌ তাতে সম্মত ছিলেন কি না—এই প্রশ্নটির উত্তর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সরল আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখার বদলে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

