যাদবপুরে SFI-ABVP সংঘর্ষের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি, কী সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয়?

NEWS INDIA বাংলা
0

যাদবপুরে ফের উত্তেজনা, সংঘর্ষের পর ছাত্র সংসদ ভোটের দাবিতে বাড়ছে চাপ

সংঘর্ষের পরও কাটেনি যাদবপুরের উত্তাপ, ফের জোরালো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে SFI ও ABVP সংঘর্ষের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের পর উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ২০ অগস্ট রাতে ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (FETSU)-এর সাধারণ সভা ঘিরে SFI-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ABVP-র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা এবং বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢোকানোর অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

ঘটনার পর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রশাসনিক ভবন অরবিন্দ ভবনও পরিস্থিতির মধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও অশান্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এই আবহেই ফের সামনে এসেছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন (Students’ Union Election)-এর দাবি। যাদবপুরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালের সমাবর্তনেও ছাত্রদের একাংশ দ্রুত নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তখন জানিয়েছিলেন, সরকারের অনুমতি পাওয়া গেলে ছাত্র নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়মাবলি, ২০২০ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিস এবং নির্বাচনের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সম্মতির নথি প্রকাশিত রয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে দাবি নতুন নয়; সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর সেটিই আবার ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

তবে নির্বাচন না হওয়ার কারণকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো নিরপেক্ষ প্রমাণ এখনও সামনে নেই। বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত বা অনুমতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ছাত্রভোটের দাবি যেমন প্রশাসনিক প্রশ্ন, তেমনই তা এখন যাদবপুরের ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পরে নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উপাচার্য জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। পুলিশ আউটপোস্ট নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও ঘটনার পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলি পড়ুয়াদের নিজেদের মধ্যে সমাধানের সুযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

যাদবপুরে ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সেই রাজনীতির সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। এখন মূল নজর থাকবে তদন্তের ফল, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। নির্বাচন নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হয় কি না, সেটিও আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!