Gen Z Vote 2026: তরুণ ভোটার টানতে BJP-Congress-এর নতুন কৌশল, নজর ২০২৯ Election

NEWS INDIA বাংলা
0

Gen Z-কে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক লড়াই! ২০২৯-এর আগেই তরুণ ভোটার টানতে BJP-Congress-এর তৎপরতা

চাকরি, প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা থেকে Instagram—কেন ২০২৬ থেকেই Gen Z-কে ঘিরে সক্রিয় BJP ও Congress? 

ভারতে Gen Z তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছতে BJP ও Congress-এর রাজনৈতিক প্রচার



ভারতের রাজনীতিতে তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। তবে ২০২৬ সালে পরীক্ষার অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভের পর Gen Z-কে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও প্রায় তিন বছর দূরে। কিন্তু দেশের দুই প্রধান জাতীয় দল—BJP এবং Congress—ইতিমধ্যেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে।

Gen Z বলতে সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বোঝানো হয়। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, এই বয়সগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩৬.৭৪ কোটি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৫.৮ শতাংশ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা মিলিয়ে Gen Z প্রতিনিধির সংখ্যা মাত্র ২৬ জন—৬ জন সাংসদ এবং ২০ জন বিধায়ক।

এই ব্যবধানই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে Gen Z-কে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। BJP ইতিমধ্যেই তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের Gen Z outreach-এর জন্য একটি বিশেষ টিম গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে নীতিন নাবিন, স্মৃতি ইরানি এবং বিনোদ তাওড়ের মতো নেতাদের ভূমিকা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি স্কুলে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি স্তরেও তরুণদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল বদলাচ্ছে। ‘One Day, One University’ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের সুযোগ-সুবিধার মতো বিষয়কে এই যোগাযোগের কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও BJP-র কৌশলে পরিবর্তন স্পষ্ট। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক Gen Z-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর Instagram-কেন্দ্রিক যোগাযোগ বেড়েছে। selfie-style video, short-form content এবং তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা হচ্ছে।

অন্যদিকে Congress-ও ছাত্র ও তরুণদের নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার জোরদার করেছে। ৮ আগস্ট প্রয়াগরাজে ‘Chhatron Ki Goonj’ কর্মসূচিতে Rahul Gandhi শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি চাকরি, ব্যয়বহুল শিক্ষা, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং অর্থনৈতিক সুযোগের মতো বিষয় সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল ‘দর্দ, ডেটা, দৌলত’—যার মাধ্যমে তরুণদের সমস্যা, তথ্য এবং অর্থনৈতিক সুযোগের প্রশ্নকে রাজনৈতিক আলোচনায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে শুধু Instagram, YouTube বা Reels-এর ভাষা বদলালেই Gen Z-এর সমর্থন পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। BJP-র অভ্যন্তরীণ আলোচনাতেও তরুণদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে চাকরি, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার খরচ নিয়ে বাস্তব উদ্বেগ রয়েছে।

তাই ২০২৯-এর লড়াই শুধু ভোটের অঙ্কের নয়, আস্থা তৈরির লড়াইও হতে চলেছে। Gen Z-কে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের দর্শক হিসেবে নয়, নীতি নির্ধারণের অংশীদার হিসেবে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়—সেটিই BJP ও Congress-এর সামনে বড় পরীক্ষা। ২০২৬-এর আন্দোলনগুলি যদি কোনও বার্তা দিয়ে থাকে, তা হল তরুণদের কাছে পৌঁছতে শুধু প্রচার নয়, তাঁদের বাস্তব সমস্যার বিশ্বাসযোগ্য সমাধানও দরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!