ICC প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, Washington-Hague সংঘাত আরও তীব্র
Tomoko Akane ও সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী Abdoulaye Seye-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court বা ICC)-কে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও হেগের আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার সংঘাত আরও তীব্র হল। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ICC-এর প্রেসিডেন্ট জাপানের বিচারপতি Tomoko Akane এবং আদালতের সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী Abdoulaye Seye-র বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী Marco Rubio-র বক্তব্য, এমন সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেফতার বা বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কারণেই তাঁদের নিশানায় আনা হয়েছে, যাঁদের দেশ ICC-এর বিচারিক এখতিয়ার স্বীকার করেনি।
মার্কিন ট্রেজারি দফতরের তালিকায় Akane ও Seye-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আওতায় তাঁদের কোনও সম্পদ থাকলে তা ব্লক করা হতে পারে এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের লেনদেন সীমিত হবে। এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ICC-বিরোধী নীতির আরও কঠোর প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি হওয়া Executive Order 14203-এর ভিত্তিতেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও হেগের সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে ICC-এর তদন্ত। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Yoav Gallant-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ICC-এর সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ICC তার নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এমন দেশগুলির সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে, যারা আদালতের বিচারিক কর্তৃত্বে সম্মতি দেয়নি।
অন্যদিকে ICC মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করেছে। আদালতের বক্তব্য, বিচারক ও বিচারিক কর্মকর্তারা আইন প্রয়োগের কারণে চাপ বা হুমকির মুখে পড়লে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের জন্যও বিপজ্জনক। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আদালত তার বিচারিক দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করে যাবে বলে জানিয়েছে। নেদারল্যান্ডসও মার্কিন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে ICC-এর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
Akane জাপানের নাগরিক হওয়ায় ঘটনাটির কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। তিনি ২০২৪ সাল থেকে ICC-এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে Seye সেনেগালের নাগরিক এবং ICC-এর সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী। গাজা-সংক্রান্ত মামলায় ইসরায়েলি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপের সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা শুধু Washington বনাম The Hague সংঘাতকে আরও বাড়াল না, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করল। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিজের নাগরিকদের সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে ICC আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে তার মূল দায়িত্ব হিসেবে দেখছে।
ফলে আগামী দিনে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্তে ICC কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের মুখে আদালতের সদস্য দেশগুলি কী অবস্থান নেয়, সেদিকেও নজর থাকবে। আপাতত দুই পক্ষের অবস্থানই কঠোর। ফলে Washington-Hague সংঘাত যে দ্রুত থামছে না, নতুন নিষেধাজ্ঞায় তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল।

