হরমুজ উত্তেজনায় ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম, বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতির উদ্বেগ
Hormuz Strait নিয়ে Iran-US উত্তেজনায় ফের বাড়ল Oil Price। Brent $88.50, WTI $82.81। India-র crude import, inflation ও অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ।
ইরানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সপ্তাহের হিসাবেও দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক ঊর্ধ্বমুখী থাকার পথে। Reuters-এর সর্বশেষ বাজার আপডেট অনুযায়ী, Brent crude ১.৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপিছু ৮৮.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন WTI crude ১.৯২ শতাংশ বেড়ে ৮২.৮১ ডলারে উঠেছে।
দামের এই বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা, অবরোধ বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বর্তমানে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে হরমুজের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে ইরান। ফলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির প্রভাব স্পষ্ট। হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক কমে গেছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে। ফলে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের পরিমাণ নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার শোধনাগারগুলিও বিকল্প উৎস থেকে crude oil সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং তাইওয়ানের বিভিন্ন সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন crude কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। হরমুজের মাধ্যমে সরবরাহ অনিশ্চিত থাকায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। জুলাইয়ে এশিয়ায় মার্কিন crude রফতানি রেকর্ড ২.৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিনে পৌঁছেছিল।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Hindustan Petroleum Corporation Limited (HPCL) এবং Mangalore Refinery and Petrochemicals Limited (MRPL) সম্প্রতি মোট ৬ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত crude কেনার জন্য spot tender জারি করেছে। MRPL-এর tender-এ Red Sea এবং Strait of Hormuz এড়িয়ে সরবরাহের নির্দেশও রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে শুধু ভূরাজনীতিই দাম নির্ধারণ করছে না। দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদার পূর্বাভাস এবং মার্কিন crude মজুতের বড় বৃদ্ধি দাম বৃদ্ধির পথে চাপ তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার Brent ২ শতাংশেরও বেশি কমে ৮৭.০৭ ডলারে এবং WTI ৮১.২৫ ডলারে নেমেছিল। মার্কিন crude inventory-তে ১৭.৪ মিলিয়ন ব্যারেলের বড় বৃদ্ধি বাজারে সরবরাহ-চাপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ভারতের মতো বড় crude আমদানিকারক দেশের জন্য তেলের দাম দীর্ঘ সময় ৮৫-৯০ ডলারের আশপাশে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি, রুপির বিনিময়মূল্য এবং মূল্যস্ফীতিতে। পরিবহণ ও উৎপাদন খরচও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী দিনে মার্কিন-ইরান সম্পর্ক, হরমুজের পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী crude সরবরাহই তেলের দামের পরবর্তী বড় দিক নির্ধারণ করবে।

