হরমুজে কমছে জাহাজ, হামলার অভিযোগে আরও বাড়ল উদ্বেগ, প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব তেলবাজারে

NEWS INDIA বাংলা
0

 

হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে, বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচল আগস্টের গড়ের নিচে। ADNOC-এর ২ জাহাজে হামলার অভিযোগে বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তা উদ্বেগ, বাড়ল Brent crude-এর দাম।

হরমুজ প্রণালীতে কমেছে জাহাজ চলাচল, ADNOC-এর তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ


আন্তর্জাতিক, ১৪ আগস্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz)। নতুন জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই জলপথ দিয়ে ৯টি কমোডিটি জাহাজ (Commodity Vessel) পার হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৫। অর্থাৎ কিছুটা বৃদ্ধি হলেও আগস্টে দৈনিক গড় ১২টির তুলনায় জাহাজ চলাচল এখনও কম। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করে। সংঘাতের আগে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।

Reuters-এর প্রতিবেদনে Kpler-এর তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ৯টি কমোডিটি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজ উপসাগরের দিকে ঢুকেছে এবং চারটি ওমান উপসাগরের দিকে বেরিয়েছে। বেশিরভাগ জাহাজ ইরানের ব্যবহৃত বা নির্ধারিত রুট দিয়ে চলাচল করেছে। একই সঙ্গে কিছু জাহাজ Automatic Identification System বা AIS বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে বলে প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

এর মধ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে Abu Dhabi National Oil Company বা ADNOC-এর সঙ্গে যুক্ত দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছে। Associated Press-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় জাহাজ দুটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনও ক্রু সদস্য আহত হননি।

UAE এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে বর্ণনা করেছে। তবে ইরান এখনও অভিযোগের তাৎক্ষণিক প্রকাশ্য জবাব দেয়নি। ফলে হামলার দায় সংক্রান্ত বিষয়টি UAE-এর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

হরমুজের অস্থিরতার প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার Brent crude-এর দাম ১.৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৫০ ডলারে পৌঁছয়। US West Texas Intermediate বা WTI-এর দামও ১.৯২ শতাংশ বেড়ে ৮২.৮১ ডলারে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলার পর সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

শুধু হরমুজে জাহাজ কমে যাওয়াই নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার চেষ্টাও শুরু হয়েছে। Reuters জানিয়েছে, TotalEnergies-এর ট্রেডিং শাখা Totsa হরমুজের বাইরে ইরাকি অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবহণ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে।

ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহণে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে পরিবহণ ও আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতিতেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সরাসরি পেট্রোল-ডিজেলের দাম কতটা বাড়বে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ না হলেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় সতর্কসংকেত। আগামী দিনে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের গতিপথই নির্ধারণ করবে বিশ্ববাজারে সরবরাহের চাপ কতটা বাড়ে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!