তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নিয়ে ফের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছেন তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার একটি মামলার তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসার পর তাঁকে খুঁজতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে জমি সংক্রান্ত একটি মামলার কথা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিত রায়ের নাম তদন্তকারীদের সামনে আসে। এরপর তাঁর সন্ধানে কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও যায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন ওই এলাকার কাছাকাছি পাওয়া গিয়েছিল।
এরপর কালীঘাটের ওই বাড়িতে গভীর রাতে তল্লাশি অভিযান ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালায়। তবে সুমিত রায়ের সন্ধান মেলেনি এবং তল্লাশিতে কোনও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও পৃথক একটি মামলায় CID-এর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। বিধানসভার সই জাল সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সুমিত রায়কে ঘিরে শালবনি থানার তদন্ত এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে CID-এর পৃথক তদন্তকে একই মামলা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দুটি তদন্তের বিষয় আলাদা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীরা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে তৃণমূল শিবির তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্তাধীন অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও আদালতে নির্ধারিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে এখন নজর সুমিত রায়ের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনত তিনি নির্দোষ বলেই গণ্য হবেন।

