Hormuz Strait Crisis: হরমুজে থমকে জাহাজ চলাচল, বাড়ছে Oil Supply উদ্বেগ

NEWS INDIA বাংলা
0

 
হরমুজ ঘিরে ফের তীব্র উত্তেজনা, থমকে জাহাজ চলাচল! তেলের বাজারে বাড়ছে সরবরাহ-উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালীতে হঠাৎ কমল জাহাজ চলাচল, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অচলাবস্থায় বাড়ছে বিশ্ববাজারের উদ্বেগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কমে যাওয়া জাহাজ চলাচল ও তেলের বাজার


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে ফের তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্যাঙ্কারে হামলার পর সপ্তাহান্তে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও এখনও বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি।

রয়টার্সের ১৭ আগস্টের প্রতিবেদনে Kpler-এর জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র পাঁচটি কমোডিটি জাহাজ (Commodity Vessel) যাতায়াত করেছে। রবিবার কোনও কমোডিটি জাহাজের চলাচল নথিভুক্ত হয়নি। আগের সপ্তাহান্তে একই সময়ে ৩১টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছিল। সাম্প্রতিক ট্যাঙ্কার হামলার পর জাহাজ চলাচলে এই তীব্র পতন পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ Chokepoint। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত বলে Kpler-এর তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও LNG সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ সময় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজার নয়, জ্বালানি পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে বাজারে উদ্বেগ থাকলেও ১৭ আগস্ট তেলের দামে বড়সড় লাফ দেখা যায়নি। রয়টার্সের বাজার প্রতিবেদনে Brent crude futures প্রায় ৮৮.৭৯ ডলার প্রতি ব্যারেলে ওঠার কথা বলা হয়েছে, যেখানে US West Texas Intermediate বা WTI ছিল প্রায় ৮২.১৬ ডলার। আগের সপ্তাহে ট্যাঙ্কারে হামলা এবং সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কার জেরে দুই বেঞ্চমার্কেই ৫ শতাংশের বেশি সাপ্তাহিক বৃদ্ধি হয়েছিল।

পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রশ্ন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল ফেরাতে ওয়াশিংটনকে তেহরানের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার অবস্থানে রয়েছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেকটাই পরস্পরবিরোধী।

এর প্রভাব এশিয়ার অর্থনীতিতেও পড়ছে। হরমুজের উপর নির্ভরতা কমাতে ইতিমধ্যেই এশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার (Refinery) যুক্তরাষ্ট্রসহ বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার দিকে ঝুঁকেছে। ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন করে crude tender দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ভারতের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ-ঝুঁকি হলে আন্তর্জাতিক crude price, আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের স্থায়িত্ব, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ এবং দেশীয় জ্বালানি নীতির ওপর।

এখন নজর তিনটি বিষয়ে। হরমুজে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনায় সমঝোতা হয় কি না এবং বাস্তবে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় কি না। এই তিন প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনে জ্বালানি বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!