ইউরোপে ফের ভয়াবহ দাবানল, একাধিক দেশে জরুরি পরিস্থিতি! মৃত্যু, আগুনের গ্রাসে হাজার হাজার হেক্টর জমি
আগুনে পুড়ছে ইউরোপ, কোথাও মৃত্যু তো কোথাও রাতারাতি সরাতে হল বাসিন্দাদের
ইউরোপজুড়ে ফের ভয়াবহ দাবানলের (Wildfire) দাপট। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়া গাছপালার কারণে ফ্রান্স, গ্রিস, বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়াসহ একাধিক দেশে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কোথাও প্রাণহানি, কোথাও হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫.৭৬ লক্ষ হেক্টর জমি দাবানলে পুড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বেলজিয়ামে। High Fens প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় শুক্রবার শুরু হওয়া আগুন ইতিমধ্যেই প্রায় ৩,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। এটি বেলজিয়ামের রেকর্ড সময়ের সবচেয়ে বড় দাবানল বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আগুন জার্মান সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডস থেকেও অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও অতিরিক্ত বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। সোমবার বৃষ্টির ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সুবিধা হলেও বাসিন্দাদের এখনও সব এলাকায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গ্রিসের Salamina দ্বীপেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে শত শত মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নিতে হয়। গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর হিসাবে ৫০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদে সরানো হয়েছে। ঘটনায় এক প্রবীণ দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী ও আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট কাজ করেছে। পরে আগুনের সক্রিয় অংশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
স্পেনেও একাধিক দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। আরাগন অঞ্চলে আগুনের জেরে ঐতিহাসিক San Juan de la Peña মঠ রক্ষায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে সংরক্ষিত ১১শ শতকের তিন আরাগন রাজা ও ঐতিহাসিক সামগ্রী নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চলের আগুনে ৯,০০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়েছে এবং ১৬টি শহর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ স্পেনের Huelva-তেও আরও বড় আগুনে প্রায় ৩১,০০০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্রোয়েশিয়াতেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। Omis এলাকার দাবানলে প্রায় ১,০০০ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। আগুনে ১,০০০ হেক্টরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স, পর্তুগাল ও জার্মানির বিভিন্ন এলাকাতেও দাবানল মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবা সক্রিয় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ ও খরার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি এবং শুষ্ক উদ্ভিদ আগুন দ্রুত ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তন এই ধরনের চরম আবহাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে কোথাও বৃষ্টি বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় সাময়িক স্বস্তি এলেও ইউরোপের দাবানল মৌসুম এখনও শেষ হয়নি। ফলে আগামী দিনে তাপমাত্রা, বাতাসের গতি এবং আর্দ্রতার পরিবর্তনের ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে। একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে আগুন ছড়ানোর আশঙ্কায় ইউরোপের দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

