রুপি-বন্ডে এবার বড় নজর RBI Minutes ও মার্কিন তথ্যে, তেল-ডলারের গতিতেও বাড়ছে চাপ
এই সপ্তাহে রুপি ও বন্ড বাজার কোন দিকে? RBI Minutes, মার্কিন তথ্য ও তেলের দামে নজর
ভারতের মুদ্রা ও সরকারি বন্ড বাজারে চলতি সপ্তাহে নজর থাকবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকের দিকে। বিশেষ করে মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) Monetary Policy Committee (MPC) বৈঠকের মিনিটস, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ, এই চারটি বিষয় রুপি ও সরকারি বন্ডের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার, ১৭ আগস্ট, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা এবং RBI-এর ফরেক্স নীতির প্রভাব রুপির উপর স্পষ্ট হয়েছে। দিনের শুরুতে রুপি প্রতি ডলারে প্রায় ৯৫.৬০-এর কাছাকাছি নেমে যায়। RBI-এর FCNR(B) forex swap facility নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগে বন্ধ করার সিদ্ধান্তও বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ রুপির আরও বড় পতন আটকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চলতি সপ্তাহে ডলার-রুপির লেনদেন তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে থাকতে পারে। বাজার সমীক্ষায় ৯৫.০০ থেকে ৯৫.৫০-এর আশপাশে রুপির ওঠানামার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। আবার বৃহত্তর পরিসরে ৯৪.৫০ থেকে ৯৬.০০-এর মধ্যে লেনদেন হতে পারে বলেও মত রয়েছে। আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদা, বিদেশি মূলধনের প্রবাহ এবং RBI-এর হস্তক্ষেপ এই পরিসর ভেঙে বাজারকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বন্ড বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ হতে চলেছে। ১০ বছরের ভারতীয় সরকারি বন্ডের yield সম্প্রতি প্রায় ৬.৭৬ শতাংশের কাছে ছিল। চলতি সপ্তাহে ৬.৭২ থেকে ৬.৮০ শতাংশের মধ্যে তা ওঠানামা করতে পারে বলে বাজারের একাংশের ধারণা। RBI-এর নীতি অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে MPC মিনিটসে কী ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সেদিকেই বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর থাকবে।
আগামী ১৯ আগস্ট প্রকাশিত হওয়ার কথা RBI-এর আগস্ট বৈঠকের মিনিটস। ওই বৈঠকে repo rate ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং policy stance রাখা হয়েছে neutral। ফলে মিনিটসে মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, বৈদেশিক বাজারের চাপ এবং ভবিষ্যতে সুদের হার নিয়ে MPC সদস্যদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আগামী দিনে সুদের হার কমানো বা অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা নিয়ে বাজার কোনও ইঙ্গিত পায় কি না, সেটিই বন্ডের yield-এ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের বাজারের পাশাপাশি নজর থাকবে মার্কিন অর্থনীতির দিকেও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের housing starts, industrial production এবং PMI-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হবে চলতি সপ্তাহে। মার্কিন অর্থনীতিতে দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে ডলারের উপর চাপ তৈরি হতে পারে, যা রুপিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। অন্যদিকে শক্তিশালী মার্কিন তথ্য Federal Reserve-এর ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা বদলে দিলে ডলার ফের শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দামও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ এবং ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে রুপির উপর। একই সঙ্গে বন্ড বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি ও রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, চলতি সপ্তাহে রুপির ক্ষেত্রে RBI-এর হস্তক্ষেপ, তেলের দাম এবং ডলারের আন্তর্জাতিক গতিপথ, আর বন্ড বাজারে MPC মিনিটস ও বৈশ্বিক সুদের হারের প্রত্যাশাই মূল চালক হতে চলেছে। আপাতত বড় কোনও ধাক্কার বদলে সীমিত রেঞ্জে লেনদেনের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মার্কিন তথ্য বা RBI-এর নীতি-সংক্রান্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত এলে বাজারের সমীকরণ দ্রুত বদলাতে পারে।

