Government Doctors Private Practice Rule: Admission Day-তে ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা, বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গে

NEWS INDIA বাংলা
0

 সরকারি চিকিৎসকদের Private Practice-এ ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা, নতুন নির্দেশিকায় তীব্র বিতর্ক

Admission Day ঘিরে নতুন নিয়ম, সরকারি চিকিৎসকদের Private Practice-এ ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ কেন?

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের Private Practice নিয়ে নতুন ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ


পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি চিকিৎসকদের Private Practice নিয়ে নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক-চিকিৎসক এবং অন্যান্য সরকারি চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে রোগী ভর্তির দিন এবং তার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও চিকিৎসকের নির্ধারিত Admission Day-তে রোগী ভর্তি হলে সেই দিন-সহ পরবর্তী দু’দিন তিনি Private Practice করতে পারবেন না। ফলে প্রতিটি Admission Cycle-এ কার্যত ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের যুক্তি, সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার পর তাঁদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের আরও ঘনিষ্ঠ নজরদারি এবং উপস্থিতি প্রয়োজন। বিশেষ করে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিকের সময়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই Admission Day এবং পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য আরও বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই নতুন নিয়মের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে নির্দেশিকা সামনে আসার পর থেকেই চিকিৎসক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন বিভাগের কাজের ধরন বিবেচনা না করেই এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক-চিকিৎসকের সপ্তাহে একাধিক Admission Day রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার নিয়ম Private Practice-এর সুযোগকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে পারে। একইসঙ্গে যেসব বিভাগের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট Admission Day নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিধি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Association of Health Service Doctors, West Bengal-এর পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, ৭২ ঘণ্টার এই বিধিনিষেধ অত্যন্ত কঠোর এবং বাস্তবে কার্যকর করতে গেলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে পরিষেবার মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হচ্ছে না, কিন্তু একইসঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের পেশাগত অধিকার, কর্মপরিকল্পনা এবং কাজের বাস্তব পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সংগঠনের প্রতিনিধিদের একাংশ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং রোগী পরিষেবা বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে সমর্থন করলেও নির্দেশিকার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, চিকিৎসকদের কাজের চাপ কমানো, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, বেতন, আবাসন এবং পরিবহণের মতো বিষয়গুলিও উন্নত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব চিকিৎসকের সপ্তাহে একাধিক Admission Day রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রয়োজন।

ফলে এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র চিকিৎসকদের Private Practice সীমিত করা নিয়ে নয়। একদিকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সময় এবং নজরদারি নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য, অন্যদিকে চিকিৎসকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও কর্মপরিকল্পনা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর চিকিৎসক সংগঠনগুলির প্রতিবাদ এবং এর সম্ভাব্য পরিষেবা-প্রভাবের দিকে নজর রয়েছে। আগামী দিনে সরকার এই নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে আরও ব্যাখ্যা, ছাড় বা সংশোধন আনে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!