দলীয় নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি নয়! নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা শমীকের, ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে বিজেপি
ক্ষমতায় আসার পর দলের ভিতরেই কড়া নজর, নেতা-কর্মীদের ফের সতর্ক করলেন শমীক ভট্টাচার্য
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল বিজেপি। দুর্নীতি, অনিয়ম, তোলাবাজি বা ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগের আবহে ফের ‘জ়িরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতির কথা স্পষ্ট করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে কোনও নেতা বা কর্মী অনৈতিক কাজে জড়ালে তার দায় সংগঠন নেবে না। অভিযোগের প্রমাণ মিললে সাংগঠনিক এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে।
শমীকের বার্তার মূল বক্তব্য, বিজেপির ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখা দলের প্রত্যেক কার্যকর্তার দায়িত্ব। বুথস্তর থেকে রাজ্যস্তর—কোনও স্তরের কর্মীই ব্যক্তিগত আর্থিক লাভ বা অন্য কোনও স্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। সম্প্রতি বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কিছু ‘অনভিপ্রেত’ কাজকর্ম এবং অনিয়মের খবর তাঁর নজরে এসেছে বলেও ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অবস্থান অবশ্য একেবারে নতুন নয়। আগস্টের শুরুতেই তোলাবাজি নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন শমীক। তিনি স্বীকার করেছিলেন, সরকার পরিবর্তনের পরেও কিছু জায়গায় তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেই সময় তিনি ১৫ দিনের সময়সীমার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দল ও প্রশাসনের তরফে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর দলীয় স্তরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ছবিও সামনে আসে। বিজেপি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগের পর ২৫০-র বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় অনেকে রেহাই পান। অন্যদিকে, শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় ২২ জনকে সাসপেন্ড করার কথা জানানো হয়। অভিযোগগুলির মধ্যে তোলাবাজি, বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলবিরোধী কার্যকলাপের মতো বিষয় ছিল।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—কোনও নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রকাশ্যে আসা সংখ্যাগুলিও মূলত দলীয় সূত্রের দাবি। ফলে প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিজেপির অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই পদক্ষেপের গুরুত্ব রয়েছে। ভোটের আগে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান বিজেপির অন্যতম রাজনৈতিক বার্তা ছিল। ক্ষমতায় আসার পর নিজেদের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও একই মানদণ্ড প্রয়োগ করার দাবি সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে নতুন সরকারের ভাবমূর্তিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
ফলে শমীকের নতুন বার্তার পর মূল প্রশ্ন এখন একটাই—‘জ়িরো টলারেন্স’ কতটা বাস্তবে কার্যকর হয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বিজেপির বার্তা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগ শুধু সতর্কবার্তা ও শোকজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে সেই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।


