বিশ্বের অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারত ‘Growth & Hope’-এর Bright Spot: মোদী
বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, তবু ভারত নিয়ে বড় বার্তা মোদীর—কেন আশার আলো দেখছে বিশ্ব?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং সম্পদকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ভারত আন্তর্জাতিক মহলে ‘growth and hope’-এর একটি ‘bright spot’ হিসেবে উঠে এসেছে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে Economic Times World Leaders Forum 2026-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের অর্থনীতির শক্তি, সংস্কারের গতি এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতির ধারাবাহিকতা। তাঁর দাবি, ভারত এমন একটি সময়ে এগিয়ে চলেছে যখন বিশ্বের বহু দেশে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিনিয়োগকারী ও শিল্পক্ষেত্রের কাছে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সংস্কারের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও ‘next-generation reforms’ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী Production Linked Incentive বা PLI প্রকল্পকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, অতীতে ‘Licence Raj’-এর সময় উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হত। বর্তমান সরকারের নীতিতে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোকে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মোদীর ভাষায়, ‘production-linked punishment’-এর বদলে এখন ‘production-linked incentive’-এর দিকে এগিয়েছে ভারত।
ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার ক্ষেত্রেও সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগে প্রশাসনিক কাঠামোতে ‘prohibited unless permitted’ ধরনের মানসিকতা কাজ করত। এখন সেটিকে ‘permitted unless prohibited’ পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আইনত নিষিদ্ধ নয় এমন কার্যকলাপকে অযথা প্রশাসনিক বাধার মধ্যে না ফেলে ব্যবসা ও নাগরিক পরিষেবায় আরও আস্থা তৈরি করাই লক্ষ্য। সরকার ও নাগরিকের সম্পর্ক সন্দেহের পরিবর্তে বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদী তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদাহরণও তুলে ধরেন। নিয়মকানুনের বোঝা কমানো, পুরনো আইন বাতিল এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল পরিষেবা, রেল, সীমান্ত পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই সংস্কারগুলির লক্ষ্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, সাধারণ মানুষের ‘ease of living’ এবং ব্যবসার ‘ease of doing business’ বাড়ানো।
প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি নীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এমন সিদ্ধান্তই দেশের প্রকৃত পরিবর্তন ঘটায় যার প্রভাব মাটিতে দেখা যায় এবং যা শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয় না। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘Viksit Bharat’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে সংস্কারের গতি আরও বাড়ানোর বার্তাও দেন তিনি।
তবে ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশাবাদী বার্তার পাশাপাশি বাস্তব অর্থনীতির সূচকগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উন্নতি কতটা হচ্ছে, তার ওপরই শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, Economic Times World Leaders Forum-এ মোদীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিক নীতি এবং দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে ভারত নিজের অর্থনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। সরকারের দাবি, এই সংস্কারের ধারাই আগামী দিনে ভারতকে আরও বড় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি করবে।

