দিল্লিতে ফের বৃষ্টির দাপট, একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা; বজ্রপাত-ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা
বৃষ্টিতে স্বস্তি, আবার আশঙ্কাও! দিল্লি-NCR থেকে পাহাড়ে IMD-এর সতর্কতা
জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে শনিবার, ২২ আগস্ট ফের বৃষ্টির দাপট দেখা গিয়েছে। কয়েক দফা বৃষ্টিতে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে ধীরগতি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর পূর্বাভাসে ২২ আগস্ট দিল্লি, হরিয়ানা ও চণ্ডীগড়-সহ উত্তর ভারতের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
দিল্লি-NCR-এর পাশাপাশি নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও গুরুগ্রামেও আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া হলে নিচু এলাকায় জল জমা, রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। দিল্লি-NCR-এর বিভিন্ন জায়গার আবহাওয়ার তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে IMD।
শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিস্তীর্ণ অংশেই বর্ষার সক্রিয়তা রয়েছে। IMD-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ভারতে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ২২ আগস্ট হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখ অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কার্যকলাপ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। টানা বা ভারী বৃষ্টির ফলে ভূমিধস, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নদী-নালার জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উত্তর ভারতের পাশাপাশি মধ্য ও পূর্ব ভারতের কয়েকটি এলাকাতেও বর্ষার প্রভাব রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাংশে ২১ ও ২২ আগস্ট ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা IMD-এর বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির কার্যকলাপ থাকতে পারে। দেশের অন্য অংশেও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দ্রুত জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তার সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া থাকলে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন এবং যান চলাচলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় না থাকা এবং বজ্রপাতের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নজর থাকবে IMD-এর পরবর্তী বুলেটিনের দিকে। দিল্লি-NCR-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা ও সতর্কতার মাত্রা স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। IMD-এর অফিসিয়াল বুলেটিন ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

