তারেকের দিল্লি সফর ঘিরে ধোঁয়াশা! বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চাপে ঢাকা-নয়াদিল্লি
২৩–২৫ আগস্ট দিল্লি সফর কি আদৌ হচ্ছে? তারেক রহমানকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে বাড়ল কূটনৈতিক জল্পনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ফের জোরালো হয়েছে ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক তৎপরতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তাঁর নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনার কথা প্রকাশিত হলেও, ২২ আগস্ট পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়েছে বলে বাংলাদেশ বা ভারত—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। বরং সফর ঘিরে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি’—এই দুই ঘটনায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন। একই সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে ২২ আগস্টের Change of Guard Ceremony বাতিলের কারণ হিসেবে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানের মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এরপরই সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে তারেক রহমানের সফর নিয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য দেননি। Reuters-কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহও জানিয়েছেন, সফর নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। সালেহ জানিয়েছেন, ঢাকা শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রত্যর্পণ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি ঢাকার পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা আইনি কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনা করছে। এই বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে রয়েছে।
তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো জটিল বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আগে বলা হয়েছে, সফরের জন্য উপযুক্ত ও ইতিবাচক কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।
এদিকে ২২ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩-২৪ আগস্টের সম্ভাব্য সফরের জন্য ভারতীয় পক্ষ কিছু আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও শুরু করেছিল। তবে সেই সফর আপাতত এগোচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে আগস্টের মধ্যেই পরবর্তী কোনও তারিখে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে এই মুহূর্তে তারেক রহমানের দিল্লি সফরকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বলা যায়, সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আগামী দিনে সরকারি ঘোষণা, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই সফরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায়ে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত কবে দিল্লি যাবেন, আদৌ আগস্টে সফর হবে কি না এবং হলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কোন কোন বিষয় আলোচনার টেবিলে উঠবে।

