CJP কর্মী হত্যাকাণ্ডে ৮ জন গ্রেফতার, বিজেপি-যোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর
ইন্দাসে স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে বিতর্কের পর হামলার অভিযোগ, তদন্তে রাজনৈতিক যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ বাঁকুড়ার ইন্দাসে CJP (Cockroach Janta Party)-র সমর্থক শেখ আবদুল হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন বিজেপির স্থানীয় পদাধিকারী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও ঘটনার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক যোগ থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে একদিকে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর, দুই দিকেই নজর রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ আগস্ট ইন্দাসের কড়িশুন্ডা গ্রামে। CJP-র ‘School Thik Karo’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আবদুল হাফিজ তাঁর পুরনো প্রাথমিক স্কুলে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। স্কুলের পরিকাঠামোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ছবি ও ভিডিও করার পর স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ। হাফিজের দাবি, স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতেই হাফিজের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা আবদুল হাফিজ এবং তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। হামলায় মাফিকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের তরফে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার সময় মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুল সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও এবং দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের কিছু ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সবকটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ইন্দাস থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কেউ ঘটনায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার প্রকৃত কারণ কী এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে CJP ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করেছে। দলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার, পরিবারের নিরাপত্তা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিও জানায় CJP। একই সঙ্গে CPM-এর পক্ষ থেকেও দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি ঘটনার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি বিজেপির নাম ব্যবহার করে অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঘটনাটি স্থানীয় কোনও বিবাদের জেরে ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কেউ বিজেপির নাম ব্যবহার করে অপরাধ করলে দল তাকে রক্ষা করবে না।
ফলে ইন্দাসের এই ঘটনা এখন শুধুমাত্র একটি মৃত্যুর তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। আটজনের গ্রেফতার, পরিবারের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টা বক্তব্যে ঘটনাটি ক্রমেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। এখন তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

