Direct Action Day-এর স্মৃতি তুলে রাজ্যপালের তীব্র মন্তব্য, ‘ভারতীয় সভ্যতার উপর আক্রমণ’ ১৯৪৬-এর কলকাতার হিংসা
Partition Horrors Remembrance Day-এর অনুষ্ঠানে ১৯৪৬-এর Great Calcutta Killings-এর প্রসঙ্গ, ইতিহাসের সেই রক্তাক্ত অধ্যায় নিয়ে ফের চর্চা
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯৪৬ সালের কলকাতার ‘Direct Action Day’-এর ভয়াবহ স্মৃতি ফের উঠে এল আলোচনায়। দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি ১৯৪৬ সালের কলকাতার সাম্প্রদায়িক হিংসাকে ভারতীয় সভ্যতার উপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ঐতিহাসিক সেই অধ্যায় নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৪ অগস্ট দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণের দিন হিসেবে পালিত হয়। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ১৪ অগস্টকে ‘Partition Horrors Remembrance Day’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করে। এবছরও দেশভাগের সময়কার হিংসা, বাস্তুচ্যুতি ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই উপলক্ষে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এই আবহেই রাজ্যপাল রবির বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্টের কলকাতা। মুসলিম লিগের ডাকা ‘Direct Action Day’-কে কেন্দ্র করে তৎকালীন কলকাতায় ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েক দিন ধরে চলা সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীকালে এই ঘটনাই ‘Great Calcutta Killings’ নামে পরিচিত হয়। মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তবে Direct Action Day-এর ব্যাখ্যা নিয়ে ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। হিংসার সূত্রপাত, প্রশাসনের ভূমিকা, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সরল দায় চাপিয়ে ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে সেই সময়ের জটিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
১৯৪৬-এর কলকাতার হিংসা পরবর্তী সময়ে দেশভাগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়। বাংলার সামাজিক বিভাজন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুতি ইতিহাসের এই অধ্যায়কে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং সামাজিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ার স্মৃতিই বর্তমানে ‘Partition Horrors Remembrance Day’-এর মূল আলোচনার বিষয়।
রাজ্যপাল রবি এর আগেও দেশভাগের স্মৃতি নিয়ে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ১৪ অগস্ট ‘Partition Horrors Remembrance Day’ পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর এই উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে দেশভাগের সময়কার মানুষের দুর্ভোগ এবং সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে ১৯৪৬-এর মতো সংবেদনশীল ইতিহাস বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে ফিরে এলে বিতর্ক তৈরি হওয়াটাও স্বাভাবিক। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে Direct Action Day-এর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই অতীতের হিংসার স্মৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিহাসের তথ্য, প্রেক্ষাপট এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রাজ্যপালের মন্তব্য সেই পুরনো ইতিহাসকে ফের জনপরিসরে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং ১৯৪৬-এর কলকাতার হিংসার স্মৃতি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আলোচনায় কতটা জায়গা করে নেয়।

