পুরসভায় AI-এর বড় ব্যবহার! সম্পত্তি কর থেকে জল জমা, পার্কিং ও সেতু নজরদারিতে প্রযুক্তির পরিকল্পনা
পুরসভা পরিষেবায় বদল আনতে AI, জল জমা থেকে সম্পত্তি কর—কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়বে প্রযুক্তির ব্যবহার?
পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা ব্যবস্থাপনায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সম্পত্তি কর (Property Tax) সংগ্রহ থেকে শুরু করে জল জমার প্রবণতা শনাক্ত করা, পানীয় জলের পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং সেতুর (Bridge) নজরদারি—একাধিক নাগরিক পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পুরসভাগুলির পরিষেবা পরিচালনা এবং প্রশাসনিক নজরদারিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
পুরসভাগুলির রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় AI ব্যবহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে সম্পত্তি কর। শহরাঞ্চলে বহু সম্পত্তির মালিকানা, আয়তন, ব্যবহার এবং কর সংক্রান্ত তথ্য সময়মতো আপডেট না হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সমস্যা তৈরি হয়। বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেস এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা সম্ভাব্য সম্পত্তি শনাক্ত করা, পুরনো তথ্য যাচাই এবং অসঙ্গতি চিহ্নিত করার কাজে AI ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
বর্ষায় শহরাঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা জল জমা। এই ক্ষেত্রেও AI-নির্ভর পূর্বাভাস ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। অতীতের জল জমার তথ্য, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, নিকাশি ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় জল জমার ঝুঁকি বেশি, তা আগাম শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টির আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাম্প, কর্মী বা নিকাশি পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা সহজ হবে।
পানীয় জলের পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণেও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সম্ভাবনা রয়েছে। কোথায় জলের চাপ কমছে, কোন অংশে লিকেজের আশঙ্কা রয়েছে বা কোথায় বারবার সমস্যা দেখা দিচ্ছে—সেন্সর ও অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণ করে সেই তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা যেতে পারে। এর ফলে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর মেরামতের পরিবর্তে Predictive Maintenance বা আগাম রক্ষণাবেক্ষণের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।
শহরের পার্কিং ব্যবস্থাপনাতেও AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কোন এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, কোথায় পার্কিং স্পেসের চাহিদা বেশি এবং কোন সময়ে পার্কিংয়ের ব্যবহার কম—এই তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও কার্যকর পার্কিং ব্যবস্থাপনা তৈরি করা যেতে পারে। যানজট নিয়ন্ত্রণেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।
সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নগর পরিকাঠামোর নজরদারিতেও AI-ভিত্তিক monitoring ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ক্যামেরার ছবি, সেন্সর ডেটা বা structural information বিশ্লেষণ করে কোনও কাঠামোয় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং Cyber Security-র বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু AI প্রযুক্তি চালু করলেই পুরসভা পরিষেবার সমস্যা মিটবে না। প্রয়োজন হবে নির্ভরযোগ্য ডেটা, পর্যাপ্ত ডিজিটাল পরিকাঠামো, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং বিভিন্ন পুরসভার মধ্যে তথ্যের সমন্বয়। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে AI-নির্ভর সিদ্ধান্ত নিলে উল্টে প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে কোন কোন পুরসভায় প্রথমে এই ব্যবস্থা চালু হবে, প্রকল্পের বাজেট কত, বাস্তবায়নের সময়সীমা কী এবং কোন পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশের পরই উদ্যোগটির বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে।


