Adani Enterprises Share: ২০২৬-এ শক্তিশালী উত্থান, Nifty-এর সেরা পারফর্মার হওয়ার দৌড়ে আদানি এন্টারপ্রাইজেস

NEWS INDIA বাংলা
0

আদানির শেয়ারে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন! ২০২৬-এ নিফটির সেরা পারফর্মার হওয়ার দৌড়ে Adani Enterprises

হিন্ডেনবার্গের ধাক্কার পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছে Adani Enterprises, ২০২৬-এ নজরকাড়া শেয়ার পারফরম্যান্স

Adani Enterprises share price rise and strong stock market performance in 2026


ভারতীয় শেয়ারবাজারে ফের নজর কাড়ছে Adani Enterprises। ২০২৬ সালে সংস্থাটির শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। Economic Times-এর জুলাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের মাঝামাঝি সময়েই শেয়ারটি প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে নিফটি ৫০-এর সেরা পারফর্মার হয়ে উঠেছিল। ফলে ২০২৩ সালের তীব্র ধাক্কার পর আদানি এন্টারপ্রাইজেসের এই প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে মার্কিন শর্ট-সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশের পর আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি শুরু হয়েছিল। সেই সময় গোষ্ঠীর বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং ঋণ, কর্পোরেট পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে ব্যবসার সম্প্রসারণ, পরিকাঠামো প্রকল্পে অগ্রগতি এবং মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করে গোষ্ঠীটি।

আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বর্তমান গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তার বৈচিত্র্যময় ব্যবসা। বিমানবন্দর, সড়ক, তামা, নবীকরণযোগ্য শক্তি, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক প্রকল্পে সংস্থার উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। সংস্থার প্রকাশিত Q1 FY27 ফলাফল অনুযায়ী, জুন ত্রৈমাসিকে মোট আয় হয়েছে ৩৩,৫৪৬ কোটি টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে EBITDA ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৫,৬৪২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা সংস্থার সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক EBITDA।

ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণের ছবি স্পষ্ট। সংস্থার বিমানবন্দর ব্যবসায় EBITDA বছরে ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১,৬৩৩ কোটি টাকা হয়েছে। তামা ব্যবসাও চলতি ত্রৈমাসিকে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। পাশাপাশি সৌর মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং ডেটা সেন্টার ব্যবসায় নতুন ৪০০ মেগাওয়াটের hyperscale order পাওয়ার মতো ঘটনাও ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

তবে ছবির অন্য দিকও রয়েছে। Q1 FY27-তে সংস্থার কর-পূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১,২৯৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ২,৬৪৪ কোটি টাকার OFAC settlement-এর মতো এককালীন প্রভাবের কারণে কোম্পানির attributable profit after tax ঋণাত্মক হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র শেয়ারের দামের উত্থান বা EBITDA বৃদ্ধিকে দেখে সংস্থার আর্থিক অবস্থাকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। ঋণ, নগদ প্রবাহ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন ব্যবসা থেকে ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী মুনাফা আসে, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

এর মধ্যেই সামগ্রিক ভারতীয় বাজারে চাপ রয়েছে। ১৮ আগস্ট মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ব্যারেলপিছু ৯১ ডলারের উপরে ওঠা তেলের দামের প্রভাবে Nifty 50 প্রায় ০.২৭ শতাংশ এবং Sensex ০.৪০ শতাংশ কমেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রিও বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের তুলনামূলক শক্তিশালী পারফরম্যান্স আরও বেশি নজর কাড়ছে। বাজারের প্রত্যাশা এখন মূলত সংস্থার বিমানবন্দর, তামা, ডেটা সেন্টার ও নতুন পরিকাঠামো ব্যবসা থেকে ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী আয় তৈরি হয়, তার উপর নির্ভর করছে।

তাই ২০২৬ সালে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়েছে, এমনটা বলা যায় না। শেয়ারটির মূল্যায়ন, ঋণের অবস্থান, নগদ প্রবাহ এবং নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়ন আগামী দিনে নজরে থাকবে। নিফটির সেরা পারফর্মার হিসেবে জায়গা ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটিই এখন বাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রশ্ন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!