তেলের দামে আগুন, Iran উত্তেজনায় চাপে Sensex-Nifty! বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যে
Iran পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে বাজার, তেলের দাম বাড়তেই চাপে পড়ল Sensex-Nifty
মধ্যপ্রাচ্যে ফের বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতীয় শেয়ারবাজারে। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের লেনদেনের শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে BSE Sensex ও NSE Nifty। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। Brent crude একসময় ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের উপরে ওঠায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
এদিন বাজার খোলার পর Sensex প্রায় ৩০৯ পয়েন্ট নেমে ৭৭,৪১৮.০৬-এর কাছাকাছি চলে যায়। Nifty 50-ও ২৪,৩০০-এর নিচে নেমে যায়। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে Sensex প্রায় ০.৪০ শতাংশ এবং Nifty ০.২৭ শতাংশ নিচে ছিল। ১৬টি প্রধান সেক্টরের মধ্যে ৯টি সেক্টরে পতন দেখা যায়। IT বা Information Technology শেয়ারগুলিতে তুলনামূলক বেশি বিক্রির চাপ ছিল।
বাজারের এই দুর্বলতার অন্যতম বড় কারণ crude oil-এর দাম। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। Brent crude মঙ্গলবার সকালে ৯১ ডলারের কাছাকাছি বা তার উপরে লেনদেন করছিল, যা জুলাইয়ের শেষের পর সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি।
ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি বিপুল পরিমাণ crude oil আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি, কর্পোরেট সংস্থার উৎপাদন ব্যয় এবং দেশের বাণিজ্য ঘাটতির উপর। একইসঙ্গে জ্বালানির খরচ বাড়লে পরিবহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।
শেয়ারবাজারে চাপের আরেকটি কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) আচরণ। Reuters-এর হিসাবে, সোমবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২৫.৩৫ বিলিয়ন টাকা বা ২৫৩.৫ কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ তুলে নিয়েছেন, যা তিন সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় বহির্গমন। উচ্চ crude price, বাড়তে থাকা মার্কিন বন্ডের yield এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে তেলের দামের চাপের সঙ্গে দুর্বল হয়েছে ভারতীয় টাকাও। মঙ্গলবার ডলারের তুলনায় টাকা প্রায় ৯৫.৬৭৫০ স্তরে নেমে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্নে পৌঁছয়। পরে Reserve Bank of India-এর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপে পতন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়।
এর আগে সোমবার Sensex ০.৩৬ শতাংশ এবং Nifty ০.৩২ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছিল। Nifty-র পতনের ধারাও টানা পঞ্চম দিনে পৌঁছেছিল। ফলে মঙ্গলবারের দুর্বল সূচনা বাজারের সামগ্রিক sentiment-এর উপর আরও চাপ তৈরি করেছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর মূলত Iran পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ এবং crude oil-এর দামের দিকে। যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে তেলের দাম আরও বাড়লে ভারতীয় বাজারে volatility বা অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকটি সেশনে তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিই Sensex-Nifty-র গতিপথের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

.png)