জোড়াবাগানে ভোররাতে ভেঙে পড়ল পুরনো বহুতল, মৃত ১! আহত ১৯, ধ্বংসস্তূপে জোরকদমে উদ্ধারকাজ
ভোররাতে বিকট শব্দ, তারপরই ধ্বংসস্তূপ! জোড়াবাগানে পুরনো বাড়ির অংশ ভেঙে মৃত ১, আহত ১৯
কলকাতার উত্তর শহরতলির জোড়াবাগান এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে পুরনো একটি বহুতল ভবনের একাংশ ভেঙে পড়ে চাঞ্চল্য ছড়াল। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। ভোররাতে আচমকা বাড়ির অংশবিশেষ ভেঙে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police), দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার ব্রজদুলাল স্ট্রিটের একটি পুরনো তিনতলা ভবনের অংশ ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে ভবনটির বয়স একশো বছরেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা অন্য কোনও কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রবল বৃষ্টির পর ভবনের বিভিন্ন অংশের দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোররাতে আচমকা বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরাতে থাকেন। পুলিশ ও দমকলকর্মীরাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং আহতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে কলকাতার পুরনো ও বিপজ্জনক ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এখনও বহু পুরনো বাড়ি রয়েছে। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, আর্দ্রতা, বৃষ্টির জল এবং কাঠামোগত ক্ষয়ের কারণে এই ধরনের ভবনে ঝুঁকি বাড়তে পারে। জোড়াবাগান এলাকাতেও অতীতে পুরনো বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) তরফে বিপজ্জনক ভবন চিহ্নিত করা, নোটিশ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাসিন্দাদের সতর্ক করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনও ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর সেটি খালি করানো বা মেরামতের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়। মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা, বাসিন্দাদের অনীহা এবং বিকল্প থাকার ব্যবস্থা না থাকাও অনেক ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো ভবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত Structural Audit বা কাঠামোগত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে দেওয়াল, ছাদ, বিম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে জলীয় ক্ষয় বা ফাটল তৈরি হলে বিপদের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তবে জোড়াবাগানের নির্দিষ্ট ঘটনায় ভবনটির কোন অংশ কীভাবে ভেঙে পড়ল, তার প্রকৃত কারণ জানতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভবনের বাকি অংশ কতটা নিরাপদ, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি ভবনটির পুরনো নথি, রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস এবং পুরসভা থেকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
একজনের মৃত্যু এবং ১৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ভবনটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল কি না এবং থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। তদন্ত শেষ হলেই এই প্রশ্নগুলির উত্তর আরও স্পষ্ট হবে।

