বঙ্গোপসাগরে ডিপ্রেশন, দক্ষিণবঙ্গে ফের ভারী বৃষ্টি! ১৭-১৮ আগস্ট দুর্যোগের আশঙ্কা
সকালেই বদলে গেল আবহাওয়া, বঙ্গোপসাগরে ডিপ্রেশন তৈরি হতেই ফের বৃষ্টির দাপট বাংলায়
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে সোমবার, ১৭ আগস্ট সকালে ডিপ্রেশন (Depression)-এ পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে ফের সক্রিয় হয়েছে বর্ষা। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় আগামী দু’দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৭ আগস্ট কোথাও কোথাও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি (Extremely Heavy Rainfall) হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।
IMD কলকাতার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে তৈরি হওয়া Well Marked Low Pressure Area সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ডিপ্রেশনে পরিণত হয়। সকাল সাড়ে আটটার পর্যবেক্ষণেও সেটি একই অঞ্চলের কাছে অবস্থান করছিল। এরপর সিস্টেমটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ আগস্ট গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ১৭ আগস্ট কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, সাব-হিমালয়ান পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমেও আগামী কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির সময় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে শহর ও জেলার নিচু এলাকায় জল জমার সমস্যা বাড়তে পারে।
কলকাতাতেও সোমবার আবহাওয়ার পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি শহর ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বজ্রবিদ্যুৎ বা ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং জরুরি কাজে বাইরে বেরোনো মানুষকে আবহাওয়ার আপডেট দেখে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভারী বৃষ্টির ফলে নিচু রাস্তা, আন্ডারপাস এবং জলনিকাশির সমস্যাযুক্ত এলাকায় জল জমতে পারে। যেসব এলাকায় আগের বৃষ্টির জল এখনও পুরোপুরি নামেনি, সেখানে নতুন করে প্রবল বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী, খাল এবং জলাভূমি সংলগ্ন এলাকাতেও প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাব পূর্ব ভারতের আরও কিছু অংশে পড়তে পারে। IMD-এর বুলেটিনে আগামী কয়েকদিন পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সক্রিয়তা বজায় থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন কোনও তথ্য নেই। বর্তমান ব্যবস্থা ডিপ্রেশন পর্যায়ে রয়েছে এবং এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার পর সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা, জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

