আগস্টে নয়, সেপ্টেম্বরে নতুন শিল্পনীতি! ১৫–১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘোষণার লক্ষ্য বাংলার
কেন এক মাস পিছল বাংলার নতুন শিল্পনীতি? সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ঘোষণার লক্ষ্য রাজ্য সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পনীতি (Industrial Policy) ঘোষণার সময়সীমা আরও এক মাস পিছিয়ে গেল। আগস্টের মধ্যে নীতি ঘোষণা করার প্রাথমিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এখন আগামী ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই সময়সীমার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
এর আগে রাজ্য সরকার ১৫ আগস্টের মধ্যে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার লক্ষ্য নিয়েছিল। জুলাই মাসে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের সময়ের মধ্যেই নতুন নীতির ঘোষণা করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে শিল্পমহল ও বিভিন্ন Stakeholder-এর সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা চলায় সেই সময়সীমা আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
স্বপন দাশগুপ্তের বক্তব্য অনুযায়ী, শিল্পনীতি তৈরির কাজ প্রত্যাশার তুলনায় বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। শুধু বিনিয়োগের পরিমাণ বা প্রকল্পের আর্থিক মূল্য দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। কোনও শিল্পপ্রকল্প কতটা কর্মসংস্থান তৈরি করবে, তার সঙ্গে কতগুলি Ancillary Industry বা সহায়ক শিল্প গড়ে উঠতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে রাজ্যের অর্থনীতিতে তার প্রভাব কতটা হবে—এসব বিষয়ও মূল্যায়নের কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন শিল্পনীতির সঙ্গে ভূমি নীতির (Land Policy) বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিল্পের জন্য জমির প্রাপ্যতা, অব্যবহৃত বা বন্ধ কারখানার জমির পুনর্ব্যবহার এবং বিনিয়োগকারীদের জমি সংক্রান্ত প্রয়োজন কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে সরকার আলাদা করে কাজ করছে। এর আগে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্যে একটি কার্যকর Land Policy তৈরির প্রয়োজন রয়েছে এবং শিল্পনীতির সঙ্গে সেটির সমন্বয় জরুরি।
আগস্টের শুরুতেই শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, নতুন Industrial Policy-কে প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যাপক কাঠামোর মধ্যে তৈরি করা হবে। Heavy Industry, Allied Sector এবং MSME-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। শিল্পমহলের পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নীতিতে Investment Incentive, Tax-related সুবিধা এবং কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। একইসঙ্গে Ease of Doing Business, পরিকাঠামো এবং শিল্পক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে। তবে চূড়ান্ত নীতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট Incentive বা ছাড়ের তালিকা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নতুন নীতি ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে তার বাস্তবায়ন। জমি, অনুমোদন, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, শিল্প পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় দ্রুত করা সম্ভব হয় কি না, তার উপরই বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেকটাই নির্ভর করবে। শুধু নীতি ঘোষণা নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং কর্মসংস্থান তৈরির বাস্তব ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সরকারের শিল্পনীতির সাফল্য নির্ধারণ করবে।
ফলে সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য ঘোষণা এখন রাজ্যের শিল্পমহলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন Industrial Policy-তে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়, জমি সংক্রান্ত সমস্যার কী সমাধান করা হয় এবং বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়—সেদিকেই এখন নজর শিল্পমহল ও অর্থনৈতিক মহলের।

