ভোজের আয়োজন ঘিরে আনন্দপুরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, মাথায় আঘাত কর্মীর
ভোজের আয়োজন নিয়ে বচসা, তারপর হাতাহাতি—আনন্দপুরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা
কলকাতার আনন্দপুরে প্রীতিভোজ (Feast) আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিজেপির (BJP) দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল। রবিবার ভোরে আনন্দপুরের একটি খেলার মাঠে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় বিজেপির এক কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংঘর্ষের পর দুই গোষ্ঠীর সদস্যরাই আনন্দপুর থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, আনন্দপুর এলাকায় একটি প্রীতিভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করেই বিবাদের সূত্রপাত। স্থানীয় বিজেপি নেতা অরুণ বিসওয়ালের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানের জন্য দলের নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁর আরও দাবি, ভোজের আয়োজনের জন্য স্থানীয় মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং এর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভোজের আয়োজন চলাকালীন তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় এবং সেই হামলায় অরুণ বিসওয়ালের পক্ষের লোকজন জড়িত ছিলেন। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে বিবাদ নয়, এর পিছনে স্থানীয় বিজেপি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আনন্দপুরের খেলার মাঠে সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের সদস্যরা থানার সামনে পৌঁছে যান এবং পৃথকভাবে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ জানিয়েছে, আহত বিজেপি কর্মীর মাথায় আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে সংঘর্ষে কে প্রথম হামলা চালিয়েছিল, ঠিক কী কারণে বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হল এবং ঘটনায় আরও কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভোজের জন্য টাকা তোলার অভিযোগ সামনে এলেও সেই অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কারা সংগ্রহ করেছিলেন এবং তা দলের কোনও অনুমোদিত কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে এখনই কোনও পক্ষকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক দিক থেকেও আনন্দপুরের ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় স্তরে দলের কর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠীসমীকরণ, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলে তার প্রভাব সংগঠনের উপর পড়তে পারে। আনন্দপুরের এই সংঘর্ষ সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য সামনে আসেনি। পুলিশ দুই পক্ষের বক্তব্য, আহত কর্মীর অভিযোগ এবং সংঘর্ষের সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। কে বা কারা প্রথমে হামলা চালিয়েছিল এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তদন্ত শেষ হলে তা স্পষ্ট হতে পারে।
আপাতত আনন্দপুরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ। একই সঙ্গে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও প্রশাসনের নজর রয়েছে।

