ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে Kyiv-এ ইউরোপীয় নেতারা, Zelenskyy-র পাশে জোরালো সমর্থনের বার্তা
৩৫তম স্বাধীনতা দিবসে Kyiv-এ Zelenskyy-র পাশে ইউরোপ, যুদ্ধের মধ্যেই বড় সামরিক সহায়তার বার্তা
ইউক্রেনের ৩৫তম স্বাধীনতা দিবসে সোমবার, ২৪ অগস্ট, রাজধানী কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দাঁড়ালেন একাধিক ইউরোপীয় নেতা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের কোনও স্থায়ী সমাধান এখনও না এলেও, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে এই কূটনৈতিক উপস্থিতি Kyiv-এর প্রতি ইউরোপের রাজনৈতিক, সামরিক ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা-সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (Andy Burnham) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরেই ইউক্রেনে পৌঁছেছেন। ব্রিটিশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তিনি কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি Coalition of the Willing-এর বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করছেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা (António Costa)-ও কিয়েভে উপস্থিত রয়েছেন।
তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস (Friedrich Merz) সরাসরি কিয়েভে না গিয়ে বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকটি একটি হাইব্রিড ফরম্যাটে হচ্ছে এবং এর অন্যতম লক্ষ্য হল ইউক্রেনকে চলতি যুদ্ধে আরও সহায়তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি হলে দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কাঠামো তৈরি করা।
Coalition of the Willing-এ ৩০টিরও বেশি দেশ রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন সামরিক ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠন নিয়েও এই জোটের আলোচনা চলছে। সোমবারের বৈঠকেও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত চাপ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এয়ার ডিফেন্স (Air Defence)। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে ইউক্রেনের শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষা করতে আরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছে Kyiv। জেলেনস্কিও মিত্র দেশগুলির কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার উপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর মধ্যেই ব্রিটেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘোষণা করেছে। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সংস্থা MBDA-কে দীর্ঘপাল্লার SCALP ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ব্রিটিশ উপাদান সম্পর্কিত classified তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য ইউক্রেনে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের স্থানীয় assembly line গড়ে তোলার পথ তৈরি করা।
এই পদক্ষেপকে ঘিরে মস্কোর প্রতিক্রিয়াও কঠোর। রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পশ্চিমা দেশগুলির এই ধরনের সামরিক সহায়তা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। ফলে একদিকে Kyiv-এ ইউরোপীয় সমর্থন আরও স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট কোস্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনা ও পুনর্গঠনের পর্যায়েও ইউরোপ ইউক্রেনের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ভবিষ্যৎ নিয়েও সমর্থনের বার্তা এসেছে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও এখনও স্থায়ী সমঝোতা তৈরি হয়নি। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেন শান্তি চায়, কিন্তু রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর বক্তব্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে স্থায়ী শান্তির দাবিই সামনে এসেছে।

