বেজিংয়ে ডোভাল, কাল ওয়াং ই-র সঙ্গে ২৫তম বৈঠক! ভারত-চিন সীমান্তে কী বার্তা আসবে?
বেজিং পৌঁছলেন অজিত ডোভাল, মঙ্গলবার ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক—ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?
ভারত-চিন সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা। সোমবার, ২৪ অগস্ট বেজিং পৌঁছেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। মঙ্গলবার, ২৫ অগস্ট চিনের বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে চিনের Special Representative ওয়াং ই-র সঙ্গে ২৫তম Special Representatives (SR) বৈঠকে বসার কথা তাঁর। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের সম্পর্ককে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াই এই বৈঠকের কেন্দ্রে থাকতে পারে।
ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে Special Representatives কাঠামো তৈরি হয়েছিল ২০০৩ সালে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে ভারতের Special Representative হিসেবে অজিত ডোভাল এবং চিনের পক্ষ থেকে ওয়াং ই এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের অগস্টে নয়াদিল্লিতে ২৪তম দফার বৈঠক হয়েছিল। সেখানে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে উত্তেজনা কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এবারের বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখ সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনের কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা এখনও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ভারতও বারবার জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা না গেলে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ কঠিন।
গত বছরের ২৪তম SR বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, বিভিন্ন সেক্টরে নতুন General-Level Mechanism তৈরি এবং de-escalation নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠকে আগের সিদ্ধান্তগুলির অগ্রগতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বৈঠকের সময়টিও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের ১২ ও ১৩ তারিখ নয়াদিল্লিতে BRICS Summit হওয়ার কথা। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সেই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। তবে তাঁর সফর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ডোভাল-ওয়াং বৈঠককে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের ভারত-চিন যোগাযোগের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে এই বৈঠক থেকেই দ্রুত কোনও চূড়ান্ত সীমান্ত সমাধান বেরিয়ে আসবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং এর সঙ্গে LAC, ভূখণ্ড, সামরিক মোতায়েন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয় জড়িত। ফলে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি হতে পারে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতের সংঘাত এড়ানোর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।
এখন নজর থাকবে মঙ্গলবারের বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে কী বার্তা দেওয়া হয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন কোনও পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয় কি না এবং সম্ভাব্য BRICS বৈঠক ঘিরে দিল্লি-বেজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও ইঙ্গিত সামনে আসে কি না।

