Iran Sanctions: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, চাপে চিনের তেল বাণিজ্য

NEWS INDIA বাংলা
0

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আনছে আমেরিকা, চাপে পড়তে পারে চিনও!

ইরানকে ঘিরে ফের বড় সিদ্ধান্ত আমেরিকার, আজই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা—নজরে চিন ও তেলের বাজার 

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নতুন Sanctions এবং China Iran Oil Trade ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা


ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে চলেছে আমেরিকা। সোমবার, ২৪ অগস্ট, মার্কিন Treasury Secretary Scott Bessent নতুন নিষেধাজ্ঞার (Sanctions) বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ শুধু ইরানকে লক্ষ্য করেই নয়, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও সংস্থাগুলির উপরও চাপ বাড়াতে পারে। ফলে এই নতুন মার্কিন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে চিনের উপর, যে দেশ ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

বেসেন্ট গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য, অর্থনৈতিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে ইরানের তেল রফতানি, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতা আরও সীমিত করা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করেছেন, ইরানকে কোনও ধরনের ‘লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলিকেও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নজরের কেন্দ্রে চিন। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে চিন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন চাপের মধ্যে চিনা আমদানি কমেছে। আগস্টে এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে চিনের গড় তেল আমদানি প্রায় ৫.৩৪ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন, যেখানে বছরের শুরুর দিকে তা ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ছিল। Reuters আরও জানিয়েছে, ইরানের তেলের একটি বড় অংশ চিনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলি কেনে এবং লেনদেন ও পরিবহণের ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যাতে উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়।

নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চিনা সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা পরিবহণ-লজিস্টিকস নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হলে Washington ও Beijing-এর সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। চিনের Foreign Ministry ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে Beijing-এর বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে না।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, নতুন অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে Strait of Hormuz। এই কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি Hormuz-এর পরিস্থিতিও বিশ্ববাজারের নজরে রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগেই ইরানের অর্থনীতিতে তার চাপের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সোমবার ইরানের মুদ্রা rial অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ২০.২ লাখে নেমে নতুন রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে বলে Associated Press জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। সোমবার তেলের দাম কিছুটা কমলেও বিনিয়োগকারীরা Bessent-এর ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, Washington কতটা কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এবং চিন তার বিরুদ্ধে কী অবস্থান নেয়। কারণ এর প্রভাব শুধু আমেরিকা-ইরান সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিনের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক, ইরানের তেল রফতানি, Strait of Hormuz-এর জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক crude oil market—সবকিছুর উপরই নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!