২০২৬ সালে কবে রাখি পূর্ণিমা? জেনে নিন তিথি, সময়, রাখি বাঁধার নিয়ম ও পৌরাণিক কাহিনি
২৮ আগস্ট রাখি পূর্ণিমা, কখন বাঁধবেন রাখি? জেনে নিন শুভ তিথি ও শাস্ত্রীয় নিয়ম
ভাই-বোনের স্নেহ, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সুরক্ষার অঙ্গীকারের অন্যতম প্রতীক রাখি বন্ধন বা রাখি পূর্ণিমা। প্রতি বছর শ্রাবণ বা ভাদ্রের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত এই উৎসবকে ঘিরে পরিবারে শুরু হয়ে যায় নানা প্রস্তুতি। ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন বোনেরা। পাল্টা ভাইও বোনের পাশে থাকার এবং তাঁকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে রাখির বন্ধন শুধু রক্তের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
২০২৬ সালের রাখি পূর্ণিমা নিয়েও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আগ্রহ। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা ও পঞ্জাঙ্গের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট, শুক্রবার পালিত হবে রাখি পূর্ণিমা। বাংলা ১৪৩৩ সনের হিসাবে দিনটি পড়বে ১১ ভাদ্র। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৯ মিনিটে এবং তা থাকবে ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। ফলে ২৮ আগস্ট সকালেই রাখি বন্ধনের মূল আচার পালনের সুযোগ থাকছে।
রাখি উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি। মহাভারতের জনপ্রিয় একটি আখ্যান অনুযায়ী, একবার শ্রীকৃষ্ণের হাতে আঘাত লেগে রক্তপাত হলে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির অংশ ছিঁড়ে তাঁর আঙুলে বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই স্নেহ ও সম্পর্কের প্রতিদান হিসেবে পরবর্তীকালে দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষায় শ্রীকৃষ্ণ পাশে দাঁড়ান—এই কাহিনিকে অনেকেই রাখি বন্ধনের প্রতীকী উৎসের সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে এটি রাখি উৎসবের একমাত্র বা সর্বসম্মত ঐতিহাসিক উৎস নয়; উৎসবটির সঙ্গে বিভিন্ন পুরাণ ও লোককথাও জড়িত।
আরেকটি প্রচলিত কাহিনিতে দেবী সন্তোষীর সঙ্গে রাখি পূর্ণিমার সম্পর্কের কথা বলা হয়। শুভ ও লাভের বোন হিসেবে সন্তোষী মায়ের আবির্ভাব এবং রাখি উৎসবের সঙ্গে তাঁর যোগের গল্প লোকবিশ্বাসে জনপ্রিয়। অর্থাৎ, রাখির ঐতিহ্যকে ঘিরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আখ্যান যুগে যুগে প্রচলিত হয়েছে।
রাখি বাঁধার ক্ষেত্রেও অনেক পরিবারে কিছু শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলার রীতি রয়েছে। পুজোর থালায় রাখা হয় প্রদীপ, চন্দন, ধান-দূর্বা, মিষ্টি এবং রাখি। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ভাইকে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসানো শুভ বলে মনে করা হয়। প্রথমে কপালে চন্দনের তিলক দেওয়া হয়, এরপর ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে প্রদীপ দিয়ে আরতি করা হয়। তারপর ডান হাতের কব্জিতে রাখি বাঁধা এবং মিষ্টিমুখ করানোর রীতি রয়েছে।
তবে অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায়ভেদে রাখি পালনের নিয়মে পার্থক্য দেখা যায়। তাই কোনও নির্দিষ্ট রীতিকে একমাত্র বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে না দেখে পারিবারিক প্রথা ও স্থানীয় পঞ্জিকার নির্দেশ মেনে চলাই যুক্তিযুক্ত।
সব মিলিয়ে, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুধু একটি উৎসবের দিন নয়, ভাই-বোনের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি বিশেষ উপলক্ষ। রাখির সুতোয় জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, বিশ্বাস, দায়িত্ব এবং একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি।


