মনুস্মৃতি নিয়ে রাহুলের মন্তব্যে তীব্র সংঘাত, BJP-র পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত রাজনীতি
নারীর স্বাধীনতা থেকে মনুস্মৃতি—রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরে কেন নতুন করে BJP-কংগ্রেস সংঘাত?
নারীর স্বাধীনতা, পিতৃতন্ত্র (Patriarchy) এবং মনুস্মৃতি (Manusmriti)—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। ২২ অগস্ট মহারাষ্ট্রের পুণেতে কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা মনুস্মৃতিতে নারীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—কোনও নারী কারও সম্পত্তি নন; নিজের সিদ্ধান্ত, পরিচয় ও জীবনের উপর তাঁর অধিকার রয়েছে।
পুণের ওই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী তরুণীদের পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি ‘Manusmriti mindset’-এর প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, সমাজে এখনও এমন একটি মানসিকতা রয়েছে যা নারীর স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। তাঁর অভিযোগের নিশানায় ছিল BJP ও RSS-ও। রাহুলের বক্তব্য, নারীদের নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং সামাজিক ‘খাঁচা’ ভেঙে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামে বিজেপি। বিজেপির মহারাষ্ট্রের সহ-সভাপতি কেশব উপাধ্যায় পুণের অনুষ্ঠানকে ‘political comedy show’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করে রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক আক্রমণেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। মনুবাদ নিয়ে মন্তব্য করার আগে কংগ্রেসকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীতের দিকে তাকানোর পরামর্শও দেন তিনি।
বিতর্ক আরও রাজনৈতিক মাত্রা পায় ২৪ অগস্ট। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রায়বরেলির একটি অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা ভারতের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। যোগী বলেন, দেশের মানুষের রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। ফলে মনুস্মৃতি নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ধীরে ধীরে নারী অধিকার ও সামাজিক সংস্কারের আলোচনার বাইরে গিয়ে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের রাজনৈতিক বিতর্কেও পৌঁছেছে।
বিজেপির পাল্টা যুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি রাহুল গান্ধীকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার উদ্যোগকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ, বিজেপি বিতর্কটিকে মনুস্মৃতির মতাদর্শগত প্রশ্ন থেকে সরিয়ে নারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং বাস্তব নীতির বাস্তবায়নের প্রশ্নেও নিয়ে যেতে চাইছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের অবস্থান, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নারীর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, মনুস্মৃতির প্রসঙ্গ তুলে রাহুল আসলে এমন একটি পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার সমালোচনা করেছেন, যা নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সীমাবদ্ধ করে।
তবে এই বিতর্কের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই শেষ নয়। নারী অধিকার, BJP-RSS-এর ভাবমূর্তি, কংগ্রেসের সামাজিক নীতি এবং আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ—সবকিছুর সঙ্গেই বিষয়টি যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে দুই দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হলে মনুস্মৃতি বিতর্ক জাতীয় রাজনীতির আরও বড় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

