একসঙ্গে লোকসভা-বিধানসভা ভোটে জোর, ‘দেশ ও EC-র জন্য সুবিধাজনক’: JPC চেয়ারম্যান পি.পি. চৌধুরী
‘One Nation, One Election’ নিয়ে ফের জোর সওয়াল, একইসঙ্গে ভোট হলে কী কী সুবিধা দেখছেন JPC চেয়ারম্যান?
‘One Nation, One Election’ (ONOE) বা একইসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে ফের সওয়াল করলেন Joint Parliamentary Committee (JPC)-র চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ পি.পি. চৌধুরী। সোমবার, ২৪ অগস্ট, তাঁর দাবি, দেশে একসঙ্গে নির্বাচন হলে তা নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং দেশের জন্য সুবিধাজনক হবে। ঘন ঘন নির্বাচনের প্রশাসনিক চাপ কমানো, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যবস্থাকে বারবার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত না রাখার যুক্তিই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
পি.পি. চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, একইসঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের ধারণা ভারতের কাছে নতুন নয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একই সময়ের কাছাকাছি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজ্যে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সরকার বা বিধানসভা ভেঙে যাওয়া, রাষ্ট্রপতি শাসন (President’s Rule) এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো একাধিক কারণে সেই নির্বাচনী চক্র ভেঙে যায়। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অংশে আলাদা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
JPC চেয়ারম্যানের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের অতীত অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, ১৯৮৩ সালে Election Commission-এর একটি নথিতে ঘন ঘন নির্বাচনের ফলে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক চাপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে simultaneous elections-এর সুবিধার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি Law Commission এবং সংসদীয় বিভিন্ন কমিটির রিপোর্টেও একইসঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ONOE বাস্তবায়নের প্রশ্নটি শুধু নির্বাচনী ব্যয় বা প্রশাসনিক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য সংবিধান এবং নির্বাচনী আইনে একাধিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে কোনও রাজ্যের সরকার বা বিধানসভা নির্ধারিত মেয়াদের আগেই ভেঙে গেলে কীভাবে নির্বাচনী চক্র বজায় থাকবে, সেটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন।
এই বিষয়টি JPC-র আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। পি.পি. চৌধুরী আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও সরকার বা বিধানসভা মাঝপথে ভেঙে গেলে যাতে পুরো simultaneous election cycle ভেঙে না যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় safeguards নিয়ে কমিটি ভাবছে। অর্থাৎ একবার লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একই চক্রে আনার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক পরিবর্তনের কারণে সেই চক্র যাতে বারবার ভেঙে না পড়ে, তার ব্যবস্থাও তৈরি করতে হবে।
এর পাশাপাশি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সেটিকে চূড়ান্ত নির্বাচনী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিষয়টি এখনও নীতিগত, সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
ONOE-র পক্ষে যুক্তি হিসেবে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নির্বাচনী ব্যয় কমানোর বিষয়টি সামনে আনা হলেও বিরোধীদের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলির রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, আঞ্চলিক ইস্যুর গুরুত্ব এবং সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে একইসঙ্গে নির্বাচন কার্যকর করতে শুধু আইন পরিবর্তনই যথেষ্ট হবে না; প্রয়োজন হতে পারে বিস্তৃত রাজনৈতিক ঐকমত্যও।
এই পরিস্থিতিতে পি.পি. চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে One Nation, One Election নিয়ে সমর্থনকারী রাজনৈতিক ও সংসদীয় অবস্থানের পুনর্ব্যক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন নজর JPC-র পরবর্তী সুপারিশ, সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের দিকে। শেষ পর্যন্ত ONOE বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধার পাশাপাশি সাংবিধানিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

