TMC Split: মমতা-অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর, ভোটের পর তৃণমূলে ভাঙন

NEWS INDIA বাংলা
0

ভোটের পর তৃণমূলে ভাঙন, মমতা-অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর! বাংলায় বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

তৃণমূলের ভাঙনের পর আরও আক্রমণাত্মক শুভেন্দু, মমতা-অভিষেককে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাত

তৃণমূলের ভাঙন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘাত


পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকট ও বিধায়ক দলের বিভাজন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ধারাবাহিক রাজনৈতিক আক্রমণ—দুই মিলিয়ে ভোট-পরবর্তী বাংলায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ২২ অগস্ট ভবানীপুরের এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পরাজয়ের পর তৃণমূল “fragmented” বা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। তৃণমূলের আসন সংখ্যা নেমে আসে ৮০-তে। ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মমতা সেই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করেন, যা আদালত গ্রহণ করেছে।

তবে ভোটের ফলের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট দ্রুত বড় আকার নেয়। মে মাসের শেষ দিকে দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি আকস্মিক সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। ঋতব্রত পরে শুভেন্দুর বিরোধী বিধায়ক ও সাংসদদের প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

এর পরেই তৃণমূলের বিধায়ক দলের মধ্যে বিদ্রোহ প্রকাশ্যে আসে। স্বাক্ষর জালিয়াতি নিয়ে অভিযোগ, নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব নিয়ে দলের একাংশের অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ৩ জুন ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় তৃণমূলের আইনসভা দলের নেতা নির্বাচিত করেন এবং স্পিকারের স্বীকৃতিও পান। PTI-সহ একাধিক প্রতিবেদনে এটিকে তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম বড় বিভাজন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বনাম তৃণমূল সংঘাত আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ঋতব্রতদের বিদ্রোহের সঙ্গে শুভেন্দুর সরাসরি সাংগঠনিক যোগ ছিল—এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। বরং প্রকাশিত রিপোর্টে দিল্লির সাক্ষাৎকে ঘটনাপ্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রত্যক্ষ দলভাঙানোর অভিযোগকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

২২ অগস্ট ভবানীপুরে শুভেন্দু তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যে মমতা ও অভিষেকের নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক বিভাজনও উঠে আসে। একই অনুষ্ঠানে তিনি নিজের সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান, জাতীয়তাবাদ এবং পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও সামনে আনেন।

এখন প্রশ্ন, এই বিভাজন তৃণমূলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎকে কতটা প্রভাবিত করবে। ৮০ আসনে সীমাবদ্ধ হওয়ার পরও দলটি রাজ্যের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। অন্যদিকে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

ফলে আগামী দিনের লড়াই শুধু মমতা বনাম শুভেন্দু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তৃণমূল কতটা ঐক্য ধরে রাখতে পারে, বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান কী হয় এবং বিজেপি এই পরিস্থিতিকে কতটা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে পারে—তার উপরই বাংলার পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের বড় অংশ নির্ভর করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!