রাষ্ট্রপতির জাতির উদ্দেশে ভাষণ আজ সন্ধ্যা ৭টায়
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দ্রৌপদী মুর্মুর, বিশেষ গুরুত্ব ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিতে
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আজ, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। স্বাধীনতা দিবসের আগের সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির জাতির উদ্দেশে ভাষণ ভারতের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও জাতীয় পরম্পরার অংশ। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আকাশবাণীর জাতীয় নেটওয়ার্ক এবং দূরদর্শনের বিভিন্ন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে আজ সন্ধ্যার এই ভাষণের দিকে নজর রয়েছে দেশবাসীর।
আগামীকাল, ১৫ আগস্ট, দেশজুড়ে পালিত হবে স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর স্বাধীন ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস এবার উদযাপিত হতে চলেছে। স্বাধীনতার আট দশকের যাত্রায় দেশের সাফল্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, উন্নয়নের লক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের ভারত নিয়ে রাষ্ট্রপতি কী বার্তা দেন, তা নিয়েই মূল আগ্রহ। রাষ্ট্রপতির আগের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণগুলিতেও সংবিধান, জাতীয় ঐক্য এবং উন্নত ভারতের লক্ষ্যের মতো বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এবারের স্বাধীনতা দিবসের আবহে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই ঐতিহাসিক রচনা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচি চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের ভাষণেও জাতীয় গানটির ১৫০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। সেখানে স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর অনুপ্রেরণামূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ‘বন্দে মাতরম’-কে ঘিরে চলতি বছর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। জুলাই মাসে সংসদে Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Bill, 2026 পাস হয়। সংশোধনীটির লক্ষ্য জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর মতো আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গান পরিবেশনে বাধা দেওয়া বা এমন অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য শাস্তির বিধান যুক্ত করার কথা এই আইনে রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি এই বিলেও সম্মতি দিয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি এবং তার আইনি মর্যাদা নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে আজকের ভাষণে রাষ্ট্রপতি ঠিক কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন, তার সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু আগে থেকে প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল্যবোধ, সংবিধান, গণতন্ত্র, নাগরিক দায়িত্ব, সামাজিক ঐক্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য উঠে আসে। ফলে এ বছরও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসে কি না, সেদিকে নজর থাকবে।
বিশেষ করে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি, যুবসমাজের ভূমিকা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবারের স্বাধীনতা দিবসের আবহ তৈরি হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়, দেশের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হবে।
আজ সন্ধ্যা ৭টায় সেই ভাষণ সম্প্রচারিত হবে। আগামীকাল লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পতাকা উত্তোলন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপতির আজকের বক্তব্যেই তাই নজর থাকবে গোটা দেশের।

