UAE থেকে ভারতে ফেরানো হল পলাতক মাদক কারবারি বীরেন্দ্র সিং বাসোয়া, বড় সাফল্য NCB-র
UAE থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হল পলাতক মাদক কারবারি Virender Singh Basoya-কে। ১৩,০০০ কোটি টাকার drug case-এ তাঁর যোগ নিয়ে চলছে তদন্ত।
নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট: বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানে বড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পলাতক মাদক কারবারি বীরেন্দ্র সিং বাসোয়াকে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই খবর জানিয়ে বলেন, মাদকবিরোধী সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাসোয়াকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে আসার পর NCB তাঁর হেফাজত নিয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
বীরেন্দ্র বাসোয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। দিল্লি পুলিশের তদন্তে তাঁর নাম বিশেষভাবে উঠে আসে ২০২৪ সালের বিপুল মাদক উদ্ধারের মামলায়। ওই তদন্তে দিল্লি, গুজরাত, পঞ্জাব ও মুম্বই থেকে মোট প্রায় ১,২৮৯ কেজি কোকেন ও মেফেড্রোন উদ্ধারের কথা আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে বিদেশে থাকা বাসোয়ার যোগাযোগ ছিল এবং বিভিন্ন শেল সংস্থা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক চালানো হত।
দিল্লির আরও বড় একটি মামলাতেও বাসোয়ার নাম উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে দিল্লি পুলিশ ও গুজরাত পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার হয়। বিভিন্ন দফায় উদ্ধার হওয়া মাদকের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি। এই মামলায় বাসোয়াকে অন্যতম মূল অভিযুক্ত বা পলাতক কিংপিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে তাঁর সহযোগী হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে এবং বিদেশে থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ চালানো হয়েছে।
বাসোয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নয়। মহারাষ্ট্রে মেফেড্রোন উদ্ধারের একটি বড় মামলাতেও তাঁর নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে। ২০২৪ সালে বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক উদ্ধারের পর তদন্তকারীরা আন্তর্জাতিক সরবরাহচক্রের সন্ধান পান। তবে বিভিন্ন মামলায় বাসোয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি এখনও বিচারাধীন এবং আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি করা যায় না।
UAE-তে আত্মগোপন করে থাকার পর ভারতীয় সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোয়। তাঁকে UAE থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে NCB-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। অমিত শাহের বক্তব্য, বিদেশে লুকিয়ে থাকা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালিয়ে তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই কেন্দ্র কাজ করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলি গত কয়েক বছর ধরে বিদেশে থাকা মাদক মামলার অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার উপর জোর দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই UAE, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকে মাদক-সংক্রান্ত মামলায় পাঁচজন পলাতককে ভারতে ফেরানো হয়েছিল।
বাসোয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে তাঁর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের আর কী তথ্য পাওয়া যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিদেশি যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং ভারতে সক্রিয় সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীরা আশা করছেন। ফলে UAE থেকে এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন পলাতক অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো নয়, বরং একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মাদক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

