নয়ডায় মজুরি আন্দোলনে গ্রেফতার, গড়ে ৫৩ দিন জেল! ২২২ জামিনের মধ্যে ৮৪%-তেই আদালতের স্বস্তি
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নয়ডার আন্দোলন, দীর্ঘ জেলবাসের পর ৮৪% জামিনে আদালতের স্বস্তি
নয়ডায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের জামিন-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। The Indian Express-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শ্রমিক আন্দোলন ও হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বহু অভিযুক্ত গড়ে প্রায় ৫৩ দিন হেফাজতে ছিলেন। সাতটি FIR-কে কেন্দ্র করে বিশ্লেষণ করা ২২২টি Bail Order-এর মধ্যে ১৮৮টি ক্ষেত্রে আদালত কোনও না কোনও ধরনের স্বস্তি দিয়েছে—অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ ক্ষেত্রে Bail Relief মিলেছে।
নয়ডার শিল্পাঞ্চলে এপ্রিল মাসে উচ্চ মজুরি, কাজের শর্ত, ওভারটাইম এবং অন্যান্য শ্রমিক-দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৩ এপ্রিল পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, কিছু জায়গায় পাথর ছোড়া, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। The Indian Express জানিয়েছিল, প্রথম পর্যায়ে শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং একাধিক FIR-এ দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, এই অশান্তি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না; একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের ভূমিকা থাকতে পারে। কিছু ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ও WhatsApp গ্রুপের মাধ্যমে শ্রমিকদের সংগঠিত করার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে National Security Act (NSA) প্রয়োগ করা হয়। মে মাসে The Indian Express জানায়, অন্তত দু’জনের বিরুদ্ধে NSA-এর মতো কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছিল।
তবে গ্রেফতারির পর আদালতে জামিনের শুনানিতে ছবির অন্য একটি দিক সামনে আসে। ২২২টি জামিনের আদেশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮৮টি আবেদনে কোনও না কোনওভাবে আদালত স্বস্তি দিয়েছে। বিচারকদের একাধিক পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব পেয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—কোনও ব্যক্তি শুধু একটি জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁকে গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় কি না। নির্দিষ্ট অভিযুক্তের সঙ্গে নির্দিষ্ট অপরাধের যোগসূত্রের প্রাথমিক উপাদান রয়েছে কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনার বিষয় হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সমস্ত গ্রেফতারই ভিত্তিহীন ছিল বা সব অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। নির্দিষ্ট কিছু মামলায় আদালত জামিনও প্রত্যাখ্যান করেছে। যেমন, ১৩ এপ্রিলের অগ্নিসংযোগের একটি মামলায় CCTV ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এক অভিযুক্তের জামিন খারিজ হওয়ার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। অর্থাৎ আদালতের মূল্যায়ন ছিল মামলাভেদে এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতে।
এই সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবিও আংশিকভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এগোয়। উত্তরপ্রদেশ সরকার শ্রমিকদের বিভিন্ন শ্রেণির জন্য ন্যূনতম মজুরি সংশোধন করে এবং ভবিষ্যৎ মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে Wage Board গঠনের কথাও জানায়।
নয়ডার ঘটনা তাই শুধু শ্রমিক আন্দোলন বনাম পুলিশের সংঘাতের ঘটনা নয়। এটি প্রতিবাদের অধিকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কঠোর আইনের প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণে বিচার বিভাগের ভূমিকার মধ্যকার ভারসাম্যের প্রশ্নও সামনে এনেছে। ৫৩ দিনের গড় হেফাজত এবং ৮৪ শতাংশ Bail Relief—এই দুই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, পুলিশি অভিযোগের গুরুতরতা এবং আদালতে ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণের মূল্যায়ন সবসময় একই জায়গায় দাঁড়ায় না।
বর্তমানে এই ঘটনাকে ঘিরে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। ফলে চূড়ান্তভাবে কে কোন অপরাধে দায়ী, তা আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।

