FCRA সংশোধনী ঘিরে কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাত, JPC-তে বিল গেলেও কাটছে না রাজনৈতিক উত্তাপ
JPC-তে গেল FCRA সংশোধনী বিল, তবু কেন কাটছে না কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাত? সামনে একাধিক প্রশ্ন
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হলেও Foreign Contribution (Regulation) Act বা FCRA সংশোধনী বিল, ২০২৬-কে ঘিরে কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত থামেনি। ১২ অগস্ট লোকসভা বিলটিকে ৩১ সদস্যের Joint Parliamentary Committee (JPC)-তে পাঠিয়েছে। কমিটিতে লোকসভার ২১ জন এবং রাজ্যসভার ১০ জন সদস্য থাকবেন। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে।
বিলটি প্রথম লোকসভায় পেশ হয়েছিল ২৫ মার্চ। এর মূল লক্ষ্য FCRA-র আওতায় বিদেশি অনুদান (Foreign Contribution) গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার কাঠামো বদলানো। কেন্দ্রের বক্তব্য, বিদেশি অর্থের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে স্পষ্ট করাই সংশোধনের উদ্দেশ্য। সরকারি FCRA ব্যবস্থাতেও বিদেশি অনুদানের ব্যবহারকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে বিরোধীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে বিলের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিধান। PRS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোনও সংগঠনের FCRA রেজিস্ট্রেশন বাতিল, আত্মসমর্পণ বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর না থাকলে বিদেশি অনুদানে তৈরি সম্পত্তি একটি Designated Authority-র অধীনে যাওয়ার ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন পুনর্নবীকরণ বা পুনর্বহাল না হলে সম্পত্তি স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
এই বিধান নিয়েই বিরোধীদের বড় উদ্বেগ। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিরোধী সদস্যরা বিলটি প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত কাঠামো NGO, সামাজিক সংগঠন এবং কিছু সংখ্যালঘু-পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের উপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি করতে পারে। সংসদে সরকারপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, বিলটি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি এবং JPC-তে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকবে।
বিলের আরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হল FCRA লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা। একই সঙ্গে কোনও অপরাধের তদন্ত শুরু করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। PRS-এর মতে, রেজিস্ট্রেশন নবীকরণ না করা এবং তার ফলে অতীতে বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পত্তির উপর প্রভাব পড়ার বিষয়টি বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এই বিতর্কের পাশাপাশি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ছাত্র আন্দোলন এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে ছাত্রদের মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। দিল্লি পুলিশ পরে সুপ্রিম কোর্টে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বল প্রয়োগ এবং সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখেছিল।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের প্রশ্ন উঠেছে এবং আদালত ছাত্রদের প্রতিবাদের অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দিয়েছে। ফলে FCRA বিতর্কের সঙ্গে সংসদে প্রতিবাদ, নাগরিক অধিকার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নও বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
১৩ অগস্ট সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হয়েছে। কিন্তু FCRA বিল এখন JPC-র হাতে থাকায় বিতর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না। কমিটি বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য, বিলের ধারাগুলি এবং সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখবে। এরপর তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সংসদীয় পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
ফলে আপাতত FCRA সংশোধনীকে ঘিরে মূল প্রশ্ন দুটি—বিদেশি অর্থের উপর কতটা কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন এবং সেই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি ক্ষমতার সীমা কোথায় থাকবে। JPC-র রিপোর্টই এই দুই প্রশ্নে পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের দিক অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

