ট্রাম্পের ‘Economic Warfare’ হুঁশিয়ারি, ইরানকে সাহায্য করলেই কঠিন অর্থনৈতিক শাস্তির বার্তা
ইরানকে ঘিরে আরও কড়া ট্রাম্প, পাশে দাঁড়ালেই ‘বিরাট অর্থনৈতিক পরিণতি’র হুঁশিয়ারি
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার, ১৯ আগস্ট স্থানীয় সময় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ (Economic Warfare) ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, যে দেশ, ব্যবসা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থা ইরানকে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদেরও ‘বিরাট’ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় এই উদ্যোগকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির সুযোগ গ্রহণ করেনি। তবে নতুন করে ঠিক কোন কোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প বিশেষভাবে তেল পাচার (Oil Smuggling), আর্থিক লেনদেন, অর্থের বিনিময় ব্যবস্থা, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালানোর বিষয়গুলিকে বন্ধ করার কথা বলেছেন।
এই ঘোষণার ফলে মার্কিন চাপের পরিধি শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা আর্থিক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশ ও সংস্থাগুলিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের তেল বিক্রি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর Secondary Sanctions বা অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা দেশকে কীভাবে শাস্তির আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে চীনের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীনের সঙ্গে তেহরানের তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন যদি ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী আন্তর্জাতিক ব্যাংক, ব্যবসা ও পরিবহণ সংস্থার ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে মার্কিন-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) এই মার্কিন উদ্যোগকে ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তথাকথিত ‘Economic D-Day’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা এবং এই নীতি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য আরও সমস্যাই তৈরি করবে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২.৮২ ডলারে পৌঁছেছে। Reuters জানিয়েছে, টানা পাঁচটি সেশনে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই বাজারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
ফলে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা শুধু Washington-Tehran দ্বন্দ্বের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং, বাণিজ্য এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দেশগুলির ওপরও। এখন নজর থাকবে, ঘোষণার পর মার্কিন প্রশাসন বাস্তবে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং ভারত, চীন-সহ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলি সেই চাপের কীভাবে মোকাবিলা করে।

