নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা ও ছেলেকে গুলি করে কুপিয়ে খুন! পঞ্চায়েত প্রধান-সহ গ্রেফতার ৩
বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি আটকে বাবা-ছেলেকে খুন, নদিয়ার ঘটনায় গ্রেফতার পঞ্চায়েত প্রধান-সহ ৩
স্বাধীনতা দিবসের রাতে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ২৪ বছরের ছেলে আবু সুফিয়ান রহমানকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে বেথুয়াডহরি থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাগাদি রেলগেটের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর তদন্তে নেমে হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এরপর আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের বেথুয়াডহরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিহত আনিসুর রহমান কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানও কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে একই পরিবারের দুই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় সদস্যের এই হত্যাকাণ্ডের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগ সামনে এসেছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ফতেমা বিবি, সাহেব আলি মণ্ডল এবং মিঠুন শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফতেমা বিবি হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা জোব্বার শেখের স্ত্রী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জোব্বার শেখ বর্তমানে জেলবন্দি। তদন্তকারীরা তাঁর গ্রেফতারির সঙ্গে এই জোড়া খুনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। তবে এই মুহূর্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কার চূড়ান্ত ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরেই পরিকল্পিতভাবে আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলেকে নিশানা করা হয়েছে। কংগ্রেসের তরফেও স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগ তুলে ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার প্রতিবাদে প্রদেশ কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে ‘কালা দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছে। দলের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে বিরোধী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। হামলার সঠিক পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছিল, কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল, এবং ধৃতদের সঙ্গে জেলবন্দি জোব্বার শেখের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পিছনে শুধুই রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি ব্যক্তিগত বা স্থানীয় অন্য কোনও সংঘাতও কাজ করেছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বাধীনতা দিবসের রাতে এমন নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় নদিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্ত এবং আদালতে পেশ করা তথ্যের দিকেই নজর। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত নেপথ্য কারণ এবং আরও কেউ এতে জড়িত কি না।


