West Bengal-এ Ayushman Bharat চালু, ১.৪৩ কোটি পরিবার পাবেন ₹৫ লক্ষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষা

NEWS INDIA বাংলা
0

আজ থেকে বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় প্রায় ১.৪৩ কোটি পরিবার

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত, ৬ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার নতুন সুযোগ

পশ্চিমবঙ্গে Ayushman Bharat PM-JAY চালু, ১.৪৩ কোটি পরিবারের স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রতীকী ছবি


কলকাতা, ১৬ আগস্ট: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, ১৬ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB PM-JAY)। দীর্ঘদিন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গ এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্পের বাইরে ছিল। এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটল। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ায় প্রায় ১.৪৩ কোটি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।

এই সূচনার ফলে পশ্চিমবঙ্গ দেশের ৩৬তম রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে AB PM-JAY বাস্তবায়নকারী রাজ্যের তালিকায় যুক্ত হল। এর আগে গত ৮ জুন ২০২৬ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীন National Health Authority (NHA) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার পর এবার রাজ্যে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হল।

আয়ুষ্মান ভারতের অন্যতম বড় সুবিধা হল যোগ্য পরিবার প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন (Cashless) হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালেও এই সুবিধা মিলবে। ফলে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার বা ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিবারের উপর আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে এই প্রকল্পের।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল Portability। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের কোনও উপভোক্তা কাজ, পড়াশোনা বা অন্য কোনও কারণে দেশের অন্য প্রান্তে থাকলেও প্রকল্পের আওতাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এই সুবিধা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১,৯৩৪টি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে বলে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬২৭টি সরকারি এবং প্রায় ১,৩০৭টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য আয়ুষ্মান কার্ড বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গে নতুন এই প্রকল্প চালু হলেও রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা (MMSBY)-র মাধ্যমেও স্বাস্থ্যসুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না থাকা পরিবারগুলিকে MMSBY-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই হবে প্রশাসনের অন্যতম বড় কাজ।

আজকের সূচনা তাই শুধু একটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প চালুর ঘটনা নয়, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা। তবে প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে যোগ্য মানুষ কত দ্রুত আয়ুষ্মান কার্ড হাতে পাচ্ছেন, হাসপাতালে পরিষেবা কতটা সহজে মিলছে এবং চিকিৎসার সময় কোনও অতিরিক্ত খরচ বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে কি না, তার উপর।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবার, প্রবীণ মানুষ এবং রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে Cashless ও Portable healthcare সুবিধা কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছয়, এখন সেদিকেই নজর। কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই পক্ষের কাছেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রকল্পের ঘোষিত সুবিধা যাতে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে মানুষের চিকিৎসার কাজে আসে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!